একটি হর্ন এবং ‘ভাই রে এটা বাংলাদেশ’–এর গল্প
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংস্কার করা ঢাকার ফুটপাতগুলো জায়গায় জায়গায় ভাঙতে শুরু করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংস্কার করা ঢাকার ফুটপাতগুলো জায়গায় জায়গায় ভাঙতে শুরু করেছে।
আমরা ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। ওকে চিনতে পারি না। কী করব বুঝতে পারি না। রাগে সে কাঁপছে। বুঝতে পারি, শুধু পোশাক-আশাকেই ওর পরিবর্তন হয়নি, মানুষটাই পাল্টে গেছে। নিজেকে এই সমাজের হাজার বছরের রীতি থেকে আলাদা করে ফেলেছে। বিপ্লব সাহস করে বলল, ‘ঠিক আছে, দোস্ত, তুমি তোমার মতো থাকো।’ শফিক বলল, ‘অবশ্যই।’ বলেই সে হাঁটা শুরু করল।
নিকষ কালো মেঘে ঢাকা আকাশ, সঙ্গে দুদ্দাড় বৃষ্টি। কার্নিশে চুপচুপে ভেজা বাদামি রঙের একটা চড়ুই ডানা ঝাপ্টাচ্ছে। শোভনের সঙ্গে প্রথম যেদিন আমার কথা হয়, কিছুটা সখ্য গড়ে ওঠে, সেদিনও ছিল আজকের মতো অবিশ্রান্ত বৃষ্টির দিন।
শাহাদুজ্জামানের গল্পটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ৬ নভেম্বর মুক্তকণ্ঠের প্রথম বর্ষের তৃতীয় সংখ্যার ‘শুক্রবারের সাময়িকী’তে। তখনো মুক্তকণ্ঠ অনলাইন কার্যক্রম শুরু হয়নি, তাই গল্পটি এত দিন শুধু ছাপা পত্রিকার পাতাজুড়েই ছিল। গল্পটি আজ প্রথমবারের মতো অন্য আলোর অনলাইন পাঠকের জন্য উপস্থাপন করা হলো।
তো লত্তাইজু নামটা কিন্তু আমাদের গ্রাম কি আরও পাঁচ গ্রামে পাগলের সর্বনাম। সত্যি বলছি। একটা উদাহরণ দিই: চৈত্রে কি ভাদ্রে গরমের ঠেলায় কেউ অসময়ে পানিতে নেমে বসে থাকলে বলা হয় সে লত্তাইজু। অকারণে কেউ গাছে উঠে পা ঝুলিয়ে বসে থাকলে সে–ও লত্তাইজু। হাম হাম করে এক গামলা ভাত সাবাড় করছে কেউ, সে–ও লত্তাইজু।
<p>যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরে পড়ে থাকা লাশের মতো জামাকাপড়, বিছানার চাদর, বই—একটার পর একটা এত দিন ধরে রুদ্রর ঘরে পড়ে ছিল। গ্লাস আর ভাত খাওয়ার প্লেটে দুধের বলকের মতো জমে ছিল সাদা আস্তরণ। কোনো সুস্থ মানুষের...
৪১ বছর বয়সে একজন ফুটবলারের ঠিকানা সাধারণত কোথায় হয়? স্মৃতির অ্যালবামে, ধারাভাষ্যকক্ষের আরামদায়ক চেয়ারে কিংবা ডাগআউটে কোটের বোতাম আঁটতে আঁটতে চিৎকার করা চরিত্রে।
শুক্রবারের সকালটা ভালো লাগে তাদের। শুধু এদিনটি তাদের কাছে আবছায়া নয়। কোনো তাড়াহুড়ো নেই। আবিষ্ট পুকুর থেকে ফোটা পদ্ম যেন চলে আসে তাদের কাছে।
বল মাঠে গড়াবে রাত দশটায়। অথচ এশার আজানের পর থেকে আনোয়ার চেয়ারম্যানের বাড়ির উঠোনে মানুষ গিজগিজ করছে। এই গাঁয়ে সন্ধ্যার আগেই মানুষের নাকের ডাক শোনা যায়। অথচ আজ রীতিমতো চোখে পানি দিয়ে ছেলে–বুড়োরা ঘুম তাড়িয়েছে। উঠোনজুড়ে খড়ের বিছানায় ঝাঁকে ঝাঁকে মশার শুঁড়ে বিদ্ধ হতে হতেও মানুষ মন্ত্রমুগ্ধের মতো চেয়ে আছে ১৪ ইঞ্চি টেলিভিশন সেটের দিকে।
১৯৩০ সালের ঘটনা। এ বছর আলোকচিত্রী এডওয়ার্ড ওয়েস্টন ধারণ করেন ‘পেপার নং ৩০’ নামের একটি আলোকচিত্র, যা মর্ডানিস্ট আলোকচিত্রের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য। পেপার নং ৩০ এমন একটি প্রতীকচিত্র যা বিংশ শতাব্দীর শিল্পদৃষ্টিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছিল।
হাসান আজিজুল হকের ‘দিবাস্বপ্ন’ গল্পটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ৬ নভেম্বর মুক্তকণ্ঠের প্রথম বর্ষের তৃতীয় সংখ্যার ‘শুক্রবারের সাময়িকী’তে। তখনো মুক্তকণ্ঠের অনলাইন কার্যক্রম শুরু হয়নি, তাই গল্পটি এত দিন শুধু ছাপা পত্রিকার পাতাজুড়েই ছিল। গল্পটি আজ প্রথমবারের মতো ‘অন্য আলো’র অনলাইন পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো।
শহরের এক উঁচু স্মার্ট টাওয়ারের ৪৩ তলায় আমাদের বসবাস। এখানকার প্রায় সব নির্জীব বস্তুই তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আমাদের আরাম–আয়েশের জন্যে। আমার ঘুম ভেঙে যাওয়ায় ঘরের দেয়ালের স্বচ্ছতা ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে। ভোরের সূর্যের মোলায়েম আলো অল্প অল্প করে ঘরে ঢুকতে শুরু করেছে।
রাস্তা পার হতে গেলে কারা যেন তাকে থামিয়ে দেয়। তার পরপরই একপশলা ধুলো উড়িয়ে মোটরগাড়ি শাঁ করে বেরিয়ে যায়। ঠান্ডুর সারা মুখে ধুলার প্রলেপ পড়ে। ছোটবেলায় বড় রাস্তা দিয়ে ট্রাক চলে গেলে তার উড়িয়ে দেওয়া সাদা ধুলো মাখার জন্য ঠান্ডু আর তার বন্ধুরা সেই ধুলোর মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ত। কী সুন্দর সে ধুলোর গন্ধ! পাউডার কোন ছার! আজও ধুলোর পাউডার মেখে ঠান্ডু দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু এই ধুলোর গন্ধে সে ছেলেবেলায় ফিরে যায় না, তার মাথা ঘুরে ওঠে, হাত থেকে জুতা জোড়া ফসকে যায়।
পাখির খোঁজে জিল্লাল মাঝির নৌকায় রাজশাহীর পদ্মায় ঘুরে বেড়াচ্ছি।
<p>হুমায়ূন আহমেদের ‘শবযাত্রা’ গল্পটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ৬ নভেম্বর <em>মুক্তকণ্ঠ</em>র প্রথম বর্ষের তৃতীয় সংখ্যার ‘শুক্রবারের সাময়িকী’তে। তখনো <em>মুক্তকণ্ঠ</em> অনলাইন কার্যক্রম শুরু হয়নি,...
‘তাই মধুতে মাসাকিচির থাবা ভরে যায়—এত বেশি মধু যে সে একা খেয়েও শেষ করতে পারে না। সে তাই মধুগুলো একটা বালতিতে ভরে নেয়।
মকবুল সাহেব হতভম্ব হয়ে গরুর ব্যাপারীর দিকে তাকিয়ে রইলেন। লোকটা রসিকতা করছে বলে মনে হলো না। এবং আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, লোকটা তাঁর সামনেই তাঁর মতো গরু কিনতে আসা আরও দুজনকে ওই একই পরামর্শ দিল।
<p>পৃথিবীতে সবচেয়ে পরিণামহীন প্রেম করেছিল ইসিদোরা মোরালেস। আকাশের দূর কোণে এক নিঃসঙ্গ নক্ষত্রের প্রেমে পড়েছিল সে।</p><p>এর মধ্যে কোনো উপমা বা রূপক নেই। ইসিদোরা আক্ষরিক অর্থে একটি নক্ষত্রের কাছে সঁপে...
সেদিন আমি চিকেন টিক্কা-তন্দুরি কিনতে গেছিলাম, নাকি চিকেন ঝাল ফ্রাই আর পরোটা, তাতে কিছুই যায় আসে না। আসল কথা হলো, রেস্টুরেন্টে গিয়ে আমি কী শুনেছিলাম।
<p>প্রেমে পড়ার পর মানুষ যে খুব স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ে, রাকা এটা জানতে পারে তপনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার আগেই; কিন্তু এড়িয়ে গিয়েছিল। বা, যায়নি। ধরে নেওয়া যায়, এই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তার উদাসীনতা ছিল। কিন্তু...
‘কী যে ভীতুর ডিম না তুমি! তোমাকে নিয়ে চলাফেরা করাই মুশকিল।’ অভিমানে বলতে ইচ্ছা করে, তাহলে না চললেই পারো। কিন্তু নিজেকে সামলে নিই, আমি তার সঙ্গ হারাতে চাই না।
ফার্মগেটে ব্যাংক কর্মী রোকনের পায়ের রোগ জীবনকে জর্জরিত করছে। অদ্ভুত গন্ধের অনুভূতি, ঘুমহীন রাত, ফ্যান্টম লিম্ব সিনড্রোমের ছায়া। রাহেলার স্মৃতি নিয়ে বান্দরবানের যাত্রায় শেষ ধাপে পা হারাল রোকন।
সে অনেক অনেক দিন আগের কথা। বলেই তিনি সামনে বহমান পদ্মার বিস্তৃত জলরাশির দিকে তাকালেন, নদীর ওপারের কালোগ্রামের ভেতরে ঢুকে যেন তিনি ছোটবেলার আম কুড়োনোর দিনের দিকে কিছুটা ঝুঁকে পড়লেন। বলে উঠলেন—তখন ছোট ছোট গ্রাম আর কিছুটা দূরে দূরে বিস্তীর্ণ জঙ্গল, সেই জঙ্গলে নানা কিসিমের পশুপাখির বাস ছিল।
মোতালিবের দিশাহারা কানে এসব কথার কিছুই পৌঁছায় না। তার হঠাৎ মনে হয়, হাত–পা অবশ হয়ে তার চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসছে। কালো সড়কটা এইবার বড় হতে হতে তার বুকের ওপর দিয়ে রক্ত, মাংস, হাড়, পাঁজর গুঁড়ো করে সামনের দিকে চলে যাচ্ছে।