অচল ঘড়ির কাঁটা
একটা যুদ্ধ, যে যুদ্ধের বিজিত যোদ্ধা আমার বাবা। একটা যুদ্ধ, যে যুদ্ধের ক্ষতবিক্ষত ভাস্কর্য আমার মা। একটা যুদ্ধ, যে যুদ্ধ আমার জন্মদাতা। যুদ্ধে নপুংসক হওয়া ওই অন্ধকারবন্দী মানুষটা এই যুদ্ধশিশুর বাবা।
একটা যুদ্ধ, যে যুদ্ধের বিজিত যোদ্ধা আমার বাবা। একটা যুদ্ধ, যে যুদ্ধের ক্ষতবিক্ষত ভাস্কর্য আমার মা। একটা যুদ্ধ, যে যুদ্ধ আমার জন্মদাতা। যুদ্ধে নপুংসক হওয়া ওই অন্ধকারবন্দী মানুষটা এই যুদ্ধশিশুর বাবা।
‘নিচের নদীতে মাঝরাতে বাড়ি ফিরছিল কয়েকজন জেলে। নৌকার খোলে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে ডেকেছে তারা, কুমুকে সাবধান করতে। আর জেলেদের চোখের সামনে কুমু নদীর দিকে পড়তে পড়তে একবার থমকে গিয়েছিল। একটা নারী শরীর অনেক উঁচু থেকে পড়তে পড়তে আশ্চর্যজনকভাবে আর মানুষ থাকেনি।
একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে অর্কর জায়গায় নিজেকে, বিন্দুর জায়গায় বৃষ্টিকে আর ছোট খালার জায়গায় মাকে কল্পনা করে আরিফুল। আর খালু খালুর জায়গায়ই থাকে। এই কল্পনা কি খুবই অন্যায্য কল্পনা?
যখন পুরো মসজিদ জনশূন্য হয়ে এলো, তখন মসজিদের পাহারাদার এসে ইমামকে ধমকে উঠল। কর্কশ স্বরে বলল, ‘এই যে মুরুব্বি, উঠে পড়ুন। এখানে রাতে থাকা যাবে না।’
এখনো স্পষ্ট মনে আছে সেদিন মঙ্গলবার ছিল। কেন আমি বাসায় ছিলাম না তা–ও মনে আছে। কী করে যেন ওইবার পহেলা বৈশাখ মঙ্গলবারেই পড়েছিল।
তেমন একটা শীত পড়েনি। সাটিয়াজুরী স্টেশনে কোনো দারোগা জনাকয়েক বন্দুকধারী কনস্টেবল সঙ্গে নিয়ে ওয়ারেন্ট হাতে অপেক্ষায় দাঁড়িয়েও নেই।
মনোজ অধিকারীর চোখের দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলল সুবর্ণা, ‘কাশিমপুর কত দূর! কেমনে যামু ওইখানে?’
রাজিনের খুন নিয়ে তার ভেতর খচখচ করলেও কয়েক মাসের মধ্যেই সে নির্ভার বোধ করল। আসলে সে একসঙ্গে দুই সম্পর্ক এবং প্রেমিককে সামলাতে পারছিল না।
ঘুম ভেঙে চোখ খুললে এক বিশাল ক্যাকটাস দেখি, যার কাঁটায় শুরু হয় আমার জীবনের রহস্যময় যাত্রা। অপুষ্ট শৈশব, স্কুলের দিন, দাদির মৃত্যু এবং পরিত্যক্ত বাড়ির পেছনে ফিরে আসা—এক অদ্ভুত ইকোসিস্টেমে বেঁচে ওঠা। শেষে ক্যাকটাসের শিকড় আমাকে জড়িয়ে ধরে সত্য প্রকাশ করে।
চীনের গুয়াংঝুতে প্রতিবেশী শি-এর সঙ্গে ঝগড়ায় লু এবং লি প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা লাউডস্পিকারে ভূতের গল্প চালিয়ে প্রতিশোধ নেন। শব্দে বিরক্ত হয়ে চুই-এর পরিবার আদালতে যান। আদালতের হস্তক্ষেপে সরঞ্জাম বন্ধ হয়।
‘আপনি কার হয়ে কাজ করছেন? বলুন, কোনো তথ্য আড়াল করবেন না। কারা মদদ দিচ্ছে আপনাকে? কত টাকা পেয়েছেন? কোথায় সেই টাকা? চুপ করে থাকবেন না। বলুন!’
এই লেখাটা একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যায়। এক আত্মপ্রত্যয়ী ভদ্রলোক খুব জোর দিয়ে বলছিলেন যে তাঁদের বাড়ির বড় বড় ব্যাপারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত তিনিই নিয়ে থাকেন।
তার পাতানো বাবা তাকে বলতেন, দামে আটকে যাওয়ার সময় যে মেয়েটিকে একদিন তিনি দেখেছিলেন, সেই মেয়েটির মাথাভরা কালো চুল।
নান্নুর কথা শুনে কপাল থেকে বোতলটা সরাল। কপালের এক পাশ ফুলে আলু হয়ে গেছে।
বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের ছাত্র। সপ্তাহে চারটি টিউশনি করে মোটামুটি আয়-উপার্জনও আছে আমার।
এখন স্ত্রীকে কে বোঝাবে যে তাঁর সবগুলো প্যান্ট পুরোনো হয়ে গেছে, একটা নতুন প্যান্ট দরকার।
‘বিয়ের পর রাতের পর রাত জেগে আমরা গল্প করব। আমি চা বানিয়ে আনব। তারপর চা খেতে খেতে দুজনে জোছনা দেখব। মনভরে।’
তিনি আবার ভয় পেয়ে যান। কেন এমন হচ্ছে? এমন সময় তাঁর ভেতর থেকে কে যেন বলে ওঠে, ‘তোমার ওই পাপী হাত দিয়ে তাঁকে ছুঁতে পারবে না।’
তাহমিনা সালেহ তাঁদেরই একজন, প্রথম যে ১০ জন মেয়ে ১৪৪ ধারা ভেঙেছিলেন। কিন্তু এই গল্প তিনি কখনো বলেননি। এমনকি সন্তানেরাও জানত না।
অপু কেন যেন ভ্যা–ভ্যা করে কাঁদতে লাগল, সুলতান তাকে চেপে ধরে রাখল, পুরোনো সমস্ত ভুলের মতন গাঢ় করে জড়িয়ে ধরে রাখল বন্ধুকে।
গোত্রপ্রধানের হুমকি ও পৈশাচিক হাসি তাদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ ও আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিল।
তাওফিক ওই গ্রামে কত দিন ছিলেন তা মনে নেই। আর ওই ঘটনা কততম দিনে ঘটেছিল, তা–ও ঠিক বলতে পারবেন না। তবে বাঁশহাটিয়া অবস্থানের চতুর্থ বা পঞ্চম দিন হতে পারে।
এই ছবিই পুরো প্রবন্ধের আবেগীয় কেন্দ্র। এটি চিকিৎসককে ‘নায়ক’ হিসেবে গড়ে তোলার চিরাচরিত ধারণা ভেঙে দেয় এবং সামনে আনে পেশাগত নিঃসঙ্গতার নগ্ন বাস্তবতা।
গত ছয় মাসে সে কোনো বন্ধুকে রেস্তোরাঁয় নিয়ে খাওয়ায়নি। কাউকে সিগারেট গিফট করেনি। মদ খাওয়ায়নি কাউকে। তাই বন্ধুদের কাছেও বুঝি সে আর আগের মতো প্রিয় নেই।