গল্প-আড্ডা-গানে কিআর ‘তুমুল ১৩’
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মুক্তকণ্ঠ কার্যালয়ের সভাকক্ষে কিশোর আলোর ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান হয়
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মুক্তকণ্ঠ কার্যালয়ের সভাকক্ষে কিশোর আলোর ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান হয়
সে নিজের চেয়েও আকারে বড় একটি বই থেকে ‘সন্ত ইরেনের জীবনকথা’ পড়ছিল...এই অলৌকিক পাঠের প্রভাব যেন পুরো বাড়ির ওপর পড়েছিল।
গোলাম শফিকের গল্প ‘আলো নিভে গেলে’
বুদ্ধ ও মীরা দুজন নদীর ধারে বসেছেন। গোধূলির আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে পলিথিন। বুড়িগঙ্গার দূষিত জলে ময়লার স্রোত। পাশের এক বস্তি থেকে শিশুর কান্না ভেসে আসে।
রানা ভিক্ষুর গল্প ‘পেইড ফ্রেন্ড’
হানিফ এবার অবশ্য মেয়ের চিকিৎসা করিয়েছে নেত্রকোনার বড় একজন কানের ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার পুতুলের কানের ভেতর একটা যন্ত্র বসিয়েছে। এতে মেয়েটা মনে হচ্ছে কানে শুনতে পাচ্ছে।
কন্যা বাড়িতে এসে ছুটে গেল আয়নার সম্মুখে। সেই মুখ-চোখ-নাক, সেই ভ্রূভঙ্গি—সব ঠিকঠাক আগের মতো, কাল যেমন ছিল, তবে কেন ওই দুর্মুখ যুবক মুখ ঘুরিয়ে তাকে রেখে অন্য কোনো বিষয়ে মনোযোগী হলো?
উদয় রহমানের গল্প ‘কানকাটা ভ্যান গঘ’
গল্পের সম্ভাব্য দুই চরিত্র মাথা থেকে ঘরের ভেতর নেমে এসে আমাকে নিয়ে যেন উপহাসে মেতেছে। আমি অনুভব করতে পারলাম তাদের উপস্থিতি। এমন সময় সেলিমের বাঁশির শব্দ শুনতে পেলাম।
দেবদুলাল মুন্নার গল্প ‘মৃত্যুর পর’
একদিন নতুন নির্দেশ এল যে নজরুলের লেখা যেকোনো পাণ্ডুলিপি দ্রুত পরীক্ষা করে পাঠাতে হবে। হরিদাসের বুকের ভেতর কেমন যেন আনন্দ হলো।
শহরে তখন গাড়ির ধোঁয়া। রিকশার ঘণ্টি। ফুটপাতের ধুলো উড়ে এসে ফুচকার টকের পানিতে পড়তে চায়। নীলা হাত দিয়ে প্লেট ঢেকে রাখে। ইলা তার ওড়না দিয়ে নীলার কপালের ঘাম মুছে দেয়।
দুই চোখের মণি উপড়ে একটা অ্যাবসলিউট ভদকার বোতলে রেখে দিয়েছিলাম। ফরমালিনে চুবিয়ে। দিলরুবা মরে গেছে, তার চোখের মণি এই জগৎ–সংসার দেখুক।
‘বাবা খানজাহানের ক্ষমতা, পরীক্ষা কইরে দ্যাখেন।’ শেষের দিকে এসে রপ্ত করা ভদ্র ভাষা কুদরত আলী আর রক্ষা করতে পারে না। ‘আছেন কেউ তুলা রাশি, আছেন কোনো ভাইবেরাদর, থাকলে সাড়া দ্যান, বাবা খানজাহানের তাবিজ।’ গোল হয়ে দাঁড়ানো মজমা যেন উত্তেজনায় শ্বাস বন্ধ করে আছে।
নিঃশব্দে তার পেছনে গিয়ে দাঁড়াল মেরি ম্যালনি। কোনো দ্বিধা ছাড়াই ভেড়ার সেই বিশাল জমে যাওয়া পা-খানা শূন্যে উঁচু করে তুলল। তারপর সবটুকু শক্তি দিয়ে লোকটির মাথার পেছনে সজোরে বসিয়ে দিল মেরি।
আব্বাসের বাবা কাশমতির নির্দেশমতো পরনের লুঙ্গিটি বারকয়েক উল্টিয়ে পরে এবং একজন মহিলা তুমুল শব্দে বাচ্চার কানের কাছে বাজাতে থাকে কাঁসার একটি বাটি। কিছুক্ষণের মধ্যে ধীরে আব্বাসের মায়ের গর্ভফুল বেরিয়ে আসে। কিন্তু না, বাচ্চা তবু কাঁদে না। মহিলাটি বিকট শব্দে কাঁসার থালা বাজাতে থাকে।
গভীর জঙ্গলে কাঠ কাটতে গিয়ে এক দিন আলী বাবা দেখতে পেলেন একদল ঘোড়সওয়ারকে। তারা সাধারণ পথিক নয়, তারা চল্লিশ চোর। পাহাড়ের পাথুরে দেয়ালের সামনে এসে দলের নেতা উচ্চারণ করল একটি অদ্ভুত মন্ত্র। মুহূর্তেই খুলে...
উদয় রহমানের গল্প ‘কেক’
‘বাঘদাশ’ গল্পের ঘটনাপ্রবাহ ও অভিযানের বর্ণনা, যেখানে বাঘদাশ শিকারে নামা দলটির ভেতর ভয়-উত্তেজনা, ট্র্যাজেডি ও প্রতিশোধের প্রস্তুতি জড়িয়েছে।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ উপস্থাপক, সম্পাদক, সংগঠক হিসেবে যতটা পরিচিত, গল্পকার হিসেবে ততটা পরিচিত নন। তাঁর চারটি গল্প পড়ে খুব বিস্মিত হয়েছিলাম। বইয়ের ভূমিকায় লেখক বলেছেন, এই ৪টি গল্প ৩০ বছরজুড়ে বিক্ষিপ্তভাবে লেখা। এমন গল্প যিনি লেখেন, তিনি কেন আরও নিয়মিত গল্প লেখেননি?
স্বকৃত নোমানের গল্প ‘পিতৃত্ব’
নিজের সুখে থাকার বানোয়াট গল্পই যখন ফেসবুকের আঙিনায় ছড়ায়, তখন প্রতিটি লাইক-কমেন্ট যেন হয়ে ওঠে নিয়ম। অন্যকে হিংসায় জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে মারার মতো সুখ আর কোথায় মেলে—এমন প্রশান্তির খোঁজেই যেন বারবার নতুন স্ট্যাটাস।
কিছু মেয়ে আছে, যারা নিজেদের ব্যাপারে প্রশংসার আবেগ ধরে রাখতে পারে না। আমার সামনে বসা মেয়েটিও ছিল সে রকম। সে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে হেসে উঠল; চমত্কার হাসি—যেন হাসির ঝংকার।
মশিউল আলমের ‘বিলয়’ গল্পটি ১৯৯৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর মুক্তকণ্ঠ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছিল। এত দিন শুধু কাগুজে সংস্করণে থাকা গল্পটি আজ অন্য আলোর অনলাইন পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।