‘ইহসান’ করো, যেমন আল্লাহ শিখিয়েছেন
আল্লাহ যখন মানুষকে জীবন, আলো, বাতাস আর রিজিক দান করেন, তখন তিনি কোনো কার্পণ্য করেন না। কোনো বিনিময়ের শর্ত ছাড়াই তিনি বান্দার ওপর করুণার বারিধারা বর্ষণ করেন।
আল্লাহ যখন মানুষকে জীবন, আলো, বাতাস আর রিজিক দান করেন, তখন তিনি কোনো কার্পণ্য করেন না। কোনো বিনিময়ের শর্ত ছাড়াই তিনি বান্দার ওপর করুণার বারিধারা বর্ষণ করেন।
কোরআনে বুদ্ধি খাটানোর নির্দেশ তো আছেই, সেই সঙ্গে প্রাণপ্রকৃতিকে উপমা বানিয়ে গভীরভাবে চিন্তাফিকিরের ইশারা দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ধরনের কিছু উপমা সংক্রান্ত আয়াতের পর্যালোচনা করব।
যে সংসার সামান্য উপকরণ নিয়ে শুরু হয়ে দিনে দিনে বরকতময় হয়ে ওঠে, তা সেই প্রাচুর্যপূর্ণ ঘরের চেয়ে টেকসই, যেখানে জাঁকজমক আছে কিন্তু হৃদয়ের উষ্ণতা নেই।
শৈশবে যদি কোরআন শেখার পবিত্র প্রক্রিয়াটি অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা ভয়ভীতির সঙ্গে জড়িয়ে যায়, তবে অবচেতনভাবেই শিশুর মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।
জীবনের সংকট, হতাশা, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং নৈতিক অবক্ষয়ের এই যুগে কোরআনের বার্তাগুলো মানুষের ভেতর আমূল পরিবর্তন এনে দিতে পারে। এমন ১০ শিক্ষা তুলে ধরা হলো।
একজন মুসলিমের জন্য আরবি হরফ চেনা থেকে শুরু করে কোরআনের বিশুদ্ধ পাঠ শিখতে পারা মনাে আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি ভালোবাসার বন্ধন গড়ার এক অপার্থিব যাত্রা।
অনেকে দীর্ঘদিন কোরআন পড়ে যাচ্ছেন, অথচ অজান্তেই এমন ভুল করছেন, যা অর্থ বিকৃত করে দিচ্ছে। নিয়ম না জেনে ভুল কোরআন পাঠ একটি বহুল পরিচিত সমস্যা।
কোরআনে এই পাখির নাম ও ভূমিকা নিয়ে ঐতিহাসিক ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। নবী সোলাইমানের রাজত্ব এবং সাবা রাজ্যের রূপান্তরের পেছনে এই ছোট্ট পাখির ভূমিকা আশ্চর্যজনক।
প্রথমেই কোরআন পুরো গ্রন্থের অনুরূপ কিছু রচনার চ্যালেঞ্জ দেয়। পরে সেই চ্যালেঞ্জকে আরও সহজ করে ১০টি সুরা রচনার আহ্বান জানানো হয়। পরে মাত্র একটি।
ভালো কাজের মাধ্যমেও ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব, যদি তাতে নিষ্ঠা থাকে। রাসুলের কাছে একবার বলা হলো যে এক ব্যক্তি রাতে তাহাজ্জুদ পড়ে কিন্তু সকালে চুরি করে।
ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য, অন্য কারও জন্য নয়। এই চিরন্তন মহাসূত্র অনুসরণ করেই নবী-রাসুলেরা চরিত্রের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিলেন।
প্রতিটি প্রায় একই রকম আয়াতের মধ্যে শব্দের সামান্য অদলবদল, একটা শব্দের আগে-পরে হওয়া বা বাক্যের গঠনে ছোট কোনো পরিবর্তন, যা নিছক কাকতালীয় নয়।
এর অর্থ এই নয় যে বৈজ্ঞানিক ভাষাকে ধর্মীয় ভাষা দ্বারা প্রতিস্থাপন করতে হবে। বরং উভয়কে এমন একটি বৃহত্তর ব্যাখ্যামূলক কাঠামোর মধ্যে স্থাপন করতে হবে।
পবিত্র কোরআন আমাদের সামনে এমন একজন বাবার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে, যাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ সমকালীন সব বাবার জন্য অনুকরণীয়। তিনি হলেন নবী ইয়াকুব (আ.)।
কোরআন মাজিদ বিভিন্ন জায়গায় পিতৃত্বের প্রসঙ্গটি এনেছে এবং বিভিন্ন ধরনের বাবার উদাহরণ দিয়েছে। তার মধ্য থেকে আমরা কয়েকটি অনন্য বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাই।
‘আল-আব’ শব্দটি সন্তানের নিজের বাবা, দাদা এবং চাচা সবার ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হতে পারে। কিন্তু ‘ওয়ালিদ’ বলতে স্রেফ সন্তানের আপন জন্মদাতা পিতাকেই বোঝায়;
শতাব্দীর পর শতাব্দী পার হয়ে গেলেও এর একটি অক্ষর বা হরকতেও বিন্দুমাত্র পরিবর্তন ঘটেনি। কেয়ামত পর্যন্ত কোরআন এভাবেই সংরক্ষিত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
আরবরা ছিল জন্মগতভাবে ভাষা ও সাহিত্যের অনুরাগী। তারা দাবি করত, বিশুদ্ধ ও সুন্দর করে কথা বলা শুধু তাদেরই অধিকার। অবশিষ্ট বিশ্ব তাদের কাছে ছিল ‘আজম’ বা বোবা।
ইসলামি অর্থনীতিতে সম্পদকে স্রেফ ব্যক্তিমালিকানাধীন বা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি মনে করা হয় না; বরং একে আল্লাহর দেওয়া একটি পবিত্র ‘আমানত’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
তাঁর এই বদান্যতার ফলে সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো মন খুলে তাঁর জন্য দোয়া করত। এতে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও বরকত যেন সেই বাগানে উপচে পড়ত।
তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ অমর কীর্তি হলো ‘তাফসিরে ইবনে কাসির’। এর মূল শক্তি হলো—কোরআনের আয়াত দ্বারা কোরআনের ব্যাখ্যা এবং সহিহ হাদিসের যথাযথ প্রয়োগ।
সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতটিকে আয়াতুল কুরসি বলা হয়। এই আয়াতকে মহানবী (সা.) বলেছেন পবিত্র কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত।
শুধু মুখস্থের ওপর ভরসা করা হতো না। কোনো লেখা তখন পর্যন্ত গ্রহণ করতেন না, যতক্ষণ না এর পেছনে সাক্ষ্য থাকত যে এটি রাসুলের সামনে লিপিবদ্ধ করানো হয়েছে।
এই বৃষ্টির সময় একজন মুমিনের কিছু করণীয় রয়েছে, যার মাধ্যমে একজন মুমিন মহান আল্লাহর এই বিশেষ নিয়ামতকে যেমন উপভোগ করতে পারবে, তেমনি এই সময়টুকু তাঁর ইবাদতে শামিল হবে।