‘রাতটা গাড়িতেই কাটালাম, এখনো গ্যাস পাইনি’
১৩ দিন ধরে চলা গ্যাস-সংকট গতকাল রোববার থেকে আরও তীব্র হয়েছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের ওপর।
১৩ দিন ধরে চলা গ্যাস-সংকট গতকাল রোববার থেকে আরও তীব্র হয়েছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের ওপর।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভিটল এশিয়া থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২২ দশমিক ৩৫ মার্কিন ডলার দরে এক কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
আজ মঙ্গলবার ঢাকায় সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ক প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়।
এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে দেশে সৃষ্ট তীব্র গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জ্বালানি খাতে সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়ে মালয়েশিয়া সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এফএসআরইউতে অগ্নিকাণ্ডের ফলে এলএনজি খালাস ব্যাহত হওয়ায় তীব্র হয়েছে গ্যাস সংকট; পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে ১০-১৫ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
কক্সবাজারে এলএনজির একটি টার্মিনালে ত্রুটির প্রভাব পড়েছে দেশজুড়ে। এক সপ্তাহ ধরে সিএনজি স্টেশনগুলোতে অপেক্ষার পালা দীর্ঘ হওয়ার পাশাপাশি নগরে গৃহস্থালিতে রান্নায়ও তৈরি করেছে সংকট। তবে আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আশা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
এলএনজি রূপান্তর করে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহের ভাসমান টার্মিনালটি গতকাল শনিবারও চালু করা যায়নি।
এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির কারণে দেশে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে সিএনজি স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে এবং জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এফএসআরইউ-এর কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৪৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস কমে যাওয়ায় শিল্প ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে সংকট দেখা দিয়েছে; দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে ১০০টি কূপ খননসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে ৩১ দিনের ডিজেল ও ৩৬ দিনের অকটেনসহ পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে গ্যাসের সরবরাহ কমেছে, যা দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বঙ্গোপসাগরে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে ক্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দু্’তিনদিনের মধ্যে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়। বিস্তারিত আস
মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির ফলে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ঢাকাসহ সারা দেশে তীব্র স্বল্পচাপ দেখা দিয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েন এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, জাহাজ পরিবহন ব্যয় ও বিমা খাতে নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মহেশখালীর টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট কমায় সারা দেশে গ্যাসের স্বল্প চাপের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী বলেছেন, বিস্ফোরণে নিহত সবাই ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের জন্য ক্রয়কৃত ৯ কার্গো এলএনজির মধ্যে ৫টি স্পট মার্কেট ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি চার কার্গো স্পট মার্কেট থেকে আনা হবে।
আজ বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এলএনজি কেনাসহ কয়েকটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি, পর্যটন ও আর্থিক খাতে বড় ধাক্কা লেগেছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কাতার ও কুয়েত।
ফ্যামিলি কার্ডধারীদের জন্য ২ কোটি লিটার সয়াবিন তেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। একই বৈঠকে তিন কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদিত। সয়াবিন তেলের মোট খরচ ২৮২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
এখন দ্রুতই গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছে পেট্রোবাংলা।
কাতারএনার্জি এলএনজি উৎপাদন পুনরায় চালু করতে কাজ শুরু করেছে। রাস লাফানের কিউআইএলএনজি নর্থ ১ প্রকল্পের দুটি ট্রেন চালু হয়েছে। তবে পূর্ণ উৎপাদনের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়া জরুরি।
সানেমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তেলের দাম ৪০% এবং এলএনজি ৫০% বাড়লে জিডিপি ১.২% কমতে পারে, রপ্তানি ২% এবং আমদানি ১.৫% হ্রাস পাবে। মূল্যস্ফীতি ৪% বাড়বে এবং প্রকৃত মজুরি ১% কমবে। জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সানেম নবায়নযোগ্য শক্তি ও মজুত তৈরির সুপারিশ করেছে।
বৈশ্বিক সংকটে কাতার-ওমান থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ, খোলাবাজার থেকে দ্বিগুণ দামে কিনে গ্যাস ধরে রাখা হচ্ছে। তবু গ্যাস ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে লোডশেডিং বাড়ছে। ভর্তুকি ও ডলারের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণে কাজাখস্তান থেকে ১ লাখ টন ডিজেল এবং সিঙ্গাপুর থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাব মন্ত্রিসভা ক্রয় কমিটি অনুমোদন করেছে। প্রতি ব্যারেল ডিজেলের দাম ৭৫.০৬ ডলার, মোট খরচ ৬৮৯ কোটি টাকার বেশি। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার অস্থিতিশীল।