জিবের সংযমে বেহেশতের শ্রেষ্ঠ উপহার
আমাদের পূর্বসূরি মনীষীরা খুব ভালো করে উপলব্ধি করেছিলেন যে অন্তরের পবিত্রতা রক্ষা করতে হলে মুখের দরজায় কড়া পাহারা বসাতে হবে।
আমাদের পূর্বসূরি মনীষীরা খুব ভালো করে উপলব্ধি করেছিলেন যে অন্তরের পবিত্রতা রক্ষা করতে হলে মুখের দরজায় কড়া পাহারা বসাতে হবে।
চালচলন, খাদ্যাভ্যাস, পারিবারিক আচরণ থেকে শুরু করে ব্যবসা ও সামাজিক লেনদেন—সবকিছুতেই নবীজির সুন্নতের অনুসরণই আল্লাহর প্রিয় হওয়ার একমাত্র পথ।
নবীজি (সা.) একজনের হাঁচির জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বললেন, কিন্তু অপরজনের কোনো জবাব দিলেন না। বাদ পড়া ব্যক্তি জানতে চাইলেন, কেন তার হাঁচির জবাব দিলেন না।
আল্লাহর রাজত্বে অণু পরিমাণ অবিচারও উপেক্ষিত থাকে না। সৃষ্টির প্রতিটি স্পন্দনের হিসাব যেমন তাঁর কাছে রয়েছে, তেমনি অবলা প্রাণীর দীর্ঘশ্বাসও বৃথা যায় না।
কনেপক্ষ নিজেদের আভিজাত্য প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে লাখ লাখ বা কোটি টাকার দেনমোহর দাবি করে। বরপক্ষও ভাবে, ‘দেনমোহর তো শুধু কাগজে লেখার বিষয়, কে আর দেয়!’
মানুষ স্বাধীনভাবে জন্মেছে। আল্লাহ তাকে ভালো ও মন্দের পথ চেনাতে সক্ষম করেছেন। তাই ইসলামে মানুষের ওপর কোনো জোরজবরদস্তি নেই। এটিই ইসলামের মূল বাণী।
তাঁদের যোগ্যতা এক ছিল না। দায়িত্বও এক ছিল না। কিন্তু প্রত্যেকের মধ্যে রাসুল (সা.) এমন কিছু দেখেছিলেন, যা অন্যরা হয়তো তখনো দেখতে পায়নি।
কোনো ব্যবসায় প্রথম টাকাটি খাটাতে যাওয়ার আগে একজন বিশ্বাসী মানুষের মনে এই স্পষ্ট উদ্দেশ্য থাকা দরকার যে সে আসলে কী অর্জন করতে চায়।
আবু বকর (রা.) রোগশয্যায় উপলব্ধি করেছিলেন যে তাঁর সময় ফুরিয়ে আসছে। চাইছিলেন নেতৃত্ব নিয়ে যাতে মুসলিমদের মাঝে নতুন করে অনৈক্য তৈরি না হয়।
মা-ই যদি সন্তানের সঙ্গে মিথ্যা বলেন, প্রতারণামূলক আর্থিক দেনা তৈরি করেন কিংবা মানসিক কষ্টের কারণ হন—তখন সন্তানের মনের অবস্থা কেমন হয়?
সত্যকে অস্বীকার করার অন্ধকার, ভ্রষ্টতা ও শিরকি বিশ্বাসের অন্ধকার; এর সঙ্গে আছে নিজের প্রতিপালক ও পরকালের শাস্তি সম্পর্কে অজ্ঞতার অন্ধকার।
প্রয়োজন স্বামী–স্ত্রীর মধ্যকার গভীর বিশ্বাস ও ত্যাগ স্বীকার। পরিবারে যদি অশান্তি বিরাজ করে, তবে তার বিষবাষ্প ধীরে ধীরে সন্তান ও সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।
মানুষ যখন আল্লাহর সুস্পষ্ট আদেশ-নিষেধ ও শরিয়তের সীমানা উপেক্ষা করে নিজের খেয়ালখুশি, আবেগ ও কামনা-বাসনাকে জীবনের একমাত্র পথপ্রদর্শক বানিয়ে নেয়, তখন সে প্রকারান্তরে নিজের নফসের উপাসনা শুরু করে।
নববিবাহিত জীবনের সব আকর্ষণ একনিমেষে তুচ্ছ করে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে কীভাবে অগ্রাধিকার দিতে হয়—তার এক হৃদয়স্পর্শী উপাখ্যান রচিত হয়েছিল ওহুদ ময়দানে।
কোরআন আমাদের শিক্ষা দিয়েছে যে জীবনের যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে খেয়ালখুশি কিংবা সাময়িক আবেগ নয়; বরং আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশকেই চূড়ান্ত অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সমাজের অভাবগ্রস্তদের ক্ষুধা নিবারণ ও পারস্পরিক সংহতি রক্ষায় কোরআন ও সহিহ হাদিসের ১০টি দিকনির্দেশনা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
মদিনা রাষ্ট্রের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও নবীজির পারিবারিক জীবন ছিল চরম সংযমী ও কৃচ্ছ্রতাপূর্ণ। তিনি এবং তাঁর পরিবারবর্গ প্রায়ই রাতের পর রাত অভুক্ত অবস্থায় কাটাতেন
বিশ্বে ৮০ কোটিরও বেশি মানুষ প্রতি রাতে অনাহারে ঘুমাতে যায়। এই খাদ্যাভাব কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফল নয়; বরং ত্রুটিপূর্ণ বণ্টনব্যবস্থা ও অতিভোগবাদের সম্মিলিত সংকট।
সমস্যা সৃষ্টি হয় তখন, যখন নিছক সৌন্দর্য প্রদর্শনের তাড়নায় সীমা অতিক্রম করে মানুষের আল্লাহপ্রদত্ত স্বাভাবিক শারীরিক গঠনকে কৃত্রিম ও স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করা হয়।
মদিনা ও তার আশপাশের পাহাড়ি উপত্যকায় (বিশেষ করে ওয়াদি আকিক অঞ্চলে) আবিষ্কৃত অষ্টম শতাব্দীর প্রাচীন পাথুরে শিলালিপিতে এই শহরকে স্পষ্টভাবে ‘তাইয়িবা’ নামের উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকৃতির ক্ষুদ্রতম প্রাণীর মধ্যেও আল্লাহ-তাআলা যে নিখুঁত ব্যবস্থা, শৃঙ্খলা ও হেকমত রেখেছেন, তা নিয়ে চিন্তা করলেই মানুষের সামনে সৃষ্টিকর্তার কুদরত আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মানুষের ভালো উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানো, কাউকে হতাশার গহ্বর থেকে টেনে তোলা এবং ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়া কেবল মানবিক শিষ্টাচার নয়, এটি খাঁটি নববি চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ।
নবীজি এসেছিলেন মানুষের জন্য বুকভরা আশার বার্তা নিয়ে। আল্লাহ তাই তাঁর পরিচয়ে বলেছেন, “হে নবী, আপনাকে তো পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে।”
জীবনে হঠাৎ নেমে আসা অন্ধত্ব বা পক্ষাঘাতের মতো কঠিন পরিস্থিতিতে পরিবার ও ব্যক্তিকে মানসিক সাহস জোগাতে সমবেদনা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা গড়ে উঠেছিল তখন।