ইমাম আওজায়ি: ক্ষমতার সামনে আপসহীন কণ্ঠস্বর
বহু বছরের পরিশ্রমে সংগৃহীত কিতাব চোখের সামনে ধূলিসাৎ হয়ে গেলেও তাঁর জ্ঞানসাধনা থমকে যায়নি; কারণ তাঁর জ্ঞানের মূল আধার সুরক্ষিত ছিল তাঁর স্মৃতি ও অন্তরে।
বহু বছরের পরিশ্রমে সংগৃহীত কিতাব চোখের সামনে ধূলিসাৎ হয়ে গেলেও তাঁর জ্ঞানসাধনা থমকে যায়নি; কারণ তাঁর জ্ঞানের মূল আধার সুরক্ষিত ছিল তাঁর স্মৃতি ও অন্তরে।
প্রকৃতির ক্ষতির পথগুলো বন্ধ করাও ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নাগরিক জীবনে সামান্য বিশৃঙ্খলা যেন পরিবেশের ক্ষতি না করে, সেদিকে ইসলাম তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখেছে।
বড়দের সঙ্গে হাঁটার সময় সামান্য পেছনে হাঁটা, দরজায় বা যানবাহনে প্রবেশের সময় তাদের আগে সুযোগ দেওয়া এবং তাদের উপস্থিতির সম্মান জানানোর নবীজির শিক্ষা।
কোরআনের দৃষ্টিতে চিরন্তন মুক্তির একমাত্র পথ হলো আত্মশুদ্ধি। মানুষের ভেতরটা যখন পরিচ্ছন্ন হয়, তখন তার চিন্তা, ভাষা, আচরণ এবং দৈনন্দিন সম্পর্কগুলোও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কার্যকর সামাজিক রূপান্তর ও যুগোপযোগী সংস্কারের জন্য চারটি ক্ষেত্রে গভীর জ্ঞান অর্জন অপরিহার্য। তবে সমকালীন বাস্তবতার পুঙ্খানুপুঙ্খ জ্ঞানকে সঠিক সিদ্ধান্তের পূর্বশর্ত করা হয়েছে।
খোরাসান অঞ্চলের এই প্রাচীন জনপদ দীর্ঘ ছয় শতাব্দী ধরে সভ্যতা, জ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রধান কেন্দ্র ছিল। আব্বাসীয় যুগে এটি বাণিজ্যের জন্য বিখ্যাত হয়ে ওঠে।
একজন মুসলিমের জন্য আরবি হরফ চেনা থেকে শুরু করে কোরআনের বিশুদ্ধ পাঠ শিখতে পারা মনাে আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি ভালোবাসার বন্ধন গড়ার এক অপার্থিব যাত্রা।
অনেকে মনে করেন ইসলাম সহিংসতা উসকে দেয়, নারীর অধিকার খর্ব করে, কোরআন মানুষের সাহিত্য কিংবা ইসলাম নির্দিষ্ট জাতির শ্রেষ্ঠত্বকে সমর্থন করে; যা সত্য নয়।
দুঃখ-কষ্টই মানুষকে অহমিকা ভেঙে আল্লাহর সামনে সমর্পিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। যখন সব অবলম্বন ব্যর্থ প্রমাণিত হয়, তখন সে সেজদায় অশ্রুসিক্ত চোখে প্রার্থনা করে।
অন্যের ঘরে বা ব্যক্তিগত স্থানে হঠাৎ প্রবেশ করে কাউকে অপ্রস্তুত বা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলা সামাজিক অপরাধ। ঘরে প্রবেশের আগে অনুমতি নেওয়া কোরআনের অলঙ্ঘনীয় আদেশ।
জাহালাতের বিভিন্ন দিক ও জ্ঞানের বিকৃতি নিয়ে আলোচনা।
কোরআনে বৈবাহিক সম্পর্ককে পবিত্র ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কোরআনের ৭ আয়াতের আলোকে বিবাহিত জীবনের অনন্য সৌন্দর্যের কথা আলোচনা করা হলো:
নতুন বৃষ্টির পানি স্পর্শ করা সুন্নত। একবার বৃষ্টি শুরু হলে নবীজি তাঁর গায়ের চাদর সরিয়ে শরীর খানিকটা উন্মুক্ত করে বৃষ্টিতে ভেজান এবং দোয়া পাঠ করেন।
শরীর, মনের শক্তি, কাজের সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের সঙ্গে খাদ্য সরাসরি সম্পর্কিত। আত্মিক একাগ্রতা, ঘুম, মনস্তাত্ত্বিক রূপ ও দৈনন্দিন আচরণের ওপরও খাবারের প্রভাব সুদূরপ্রসারী।
উপদেশ দেওয়ার উদ্দেশ্য অপর মানুষকে ভালো হতে সাহায্য করা, তাকে হেয় করা নয়। কিন্তু কৌশল না জানায় অনেক সময় তা সম্পর্কে ফাটল ধরায়।
‘না জানা’ কোনো শরমের বিষয় নয়; না জানাকে কবুল করাই প্রকৃত ইলমের আলামত। জ্ঞানের ইতিহাসে বহু বিপর্যয় ঘটেছে সাময়িক জ্ঞানকে চূড়ান্ত জ্ঞান বলে ঘোষণা করায়।
আমরা তথ্য ও জ্ঞানকে এক করে ফেলছি। ইসলামে জ্ঞান অর্জন শুধু মস্তিষ্ককে তথ্যে সমৃদ্ধ করার বিষয় নয়; বরং তা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের প্রধানতম আত্মিক মাধ্যম।
মধ্যযুগের মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পাণ্ডুলিপির মাত্র পাঁচ শতাংশ অনূদিত হলেও তাদের গবেষণা আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণার ভিত্তি স্থাপন করেছে।
মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া কোনো কথা, অন্যায় দৃষ্টি, কিংবা মনে মনে চর্চা করা সামান্য গিবত। মনে হয়, এসব তো কবিরা গুনাহ নয়, তাহলে ক্ষতি কী?
প্রায়ই দেখা যায়, মসজিদ নির্মাণ, মিনারের সৌন্দর্যবর্ধন কিংবা মসজিদের এয়ার কন্ডিশনার ও দৈনন্দিন পরিচালনা খরচের জন্য জাকাতের ফান্ড থেকে অর্থ সংগ্রহ বা প্রদান করা হয়।
ইমাম আবু হানিফার আসল নাম নু’মান ইবনে সাবিত—এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ইতিহাসে নানা আলোচনা রয়েছে। তাঁর উপনাম ‘আবু হানিফা’ নিয়েও কুফার ভাষায় লিখনের দোয়াত ‘হানিফা’ বলে উল্লেখ করা হয়।
ইংরেজি নামের বানানে মিল থাকায় ইবনে আল-হাইসামের সঙ্গে অনেকেই আল–খাজিনিকে গুলিয়ে ফেলেন। তাঁর বহু আবিষ্কার পরবর্তী ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের নামে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইসলামে প্রাত্যহিক জীবনের প্রয়োজনীয় কাজকর্ম বর্জন করতে বলা হয়নি, বরং দুনিয়াকে চূড়ান্ত লক্ষ্য বানিয়ে ফেলা এবং এর অন্ধ মোহে পড়ে আখেরাত ভুলে যাওয়াকে কঠিনভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
তাঁদের অর্জিত বিপুল ধনসম্পদ কখনো ব্যক্তিগত ভোগবিলাস বা ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়নি; বরং তা ব্যবহৃত হয়েছে সমাজকল্যাণ, মানবিক পুনর্বণ্টন এবং রাষ্ট্রীয় সংকট নিরসনে।