
হামে শিশুর মৃত্যু, নেতাদের বিদেশযাত্রা ও আস্থাহীনতার বার্তা
চলতি বছর বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শত শত শিশু মারা গেছে। হাজার হাজার আক্রান্ত হয়েছে।

চলতি বছর বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শত শত শিশু মারা গেছে। হাজার হাজার আক্রান্ত হয়েছে।

যদি ২০২০ সালের পর নিয়মিত দেশব্যাপী অতিরিক্ত টিকাদান কর্মসূচি না হয়ে থাকে, তাহলে সেই প্রশ্ন আগের প্রশাসনের দিকেও যায়।

করোনা মহামারির পর জনস্বাস্থ্য নিয়ে আবারও একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মহামারি বা অতিমারির মতো কিছু না হলেও হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে আমরা এ কারণেই শঙ্কিত যে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আমাদের শিশুরা মারা যাচ্ছে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে হামে এত আক্রান্ত ও মৃত্যু নেই। ২০২৪ সালে ২৪৫ জন এবং ২০২৫ সালে ১২৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

গত ৯৪ দিনে দেশে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে ৬৬১ শিশুর মৃত্যু; ৮৭২ জন নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি।

হাম ও হামের উপসর্গে দেশে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সাত শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে, আর এক শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা) হামের উপসর্গে দেশে আরও তিন শিশু মারা গেছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৫১৪ শিশু। আর নিশ্চিত হামে মৃত্যু ৯১ শিশুর। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৬০৫।

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৯ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে, আর একটি শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আইসিইউর সংকটে হামে যখন একের পর এক শিশুর মৃত্যু হচ্ছে, টিসিবির ন্যায্যমূল্যের ট্রাকের পেছনে যখন উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে জেরবার মানুষের ভিড় বাড়ছে, তখন সড়ক প্রকল্পের টাকায় ভবনবিলাসের খবর আমাদের যারপরনাই বেদনাহত করে।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে মেহমেদের মৃত্যুর পর লাইফ সাপোর্ট ও তালাবদ্ধ আইসিইউ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মা।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে চারজনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। হাম শনাক্ত চার শিশুর দুজন ঢাকা বিভাগের। গত ১৫ মার্চ থেকে মোট ৪৫১ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।