
বিদেশি কোম্পানির বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার শর্ত শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক
উৎপাদন ও সেবা খাতের সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো এখন তাদের প্যারেন্ট কোম্পানি, সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও শেয়ারধারীদের কাছ থেকে আরও সহজে বৈদেশিক ঋণ নিতে পারবে।

উৎপাদন ও সেবা খাতের সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো এখন তাদের প্যারেন্ট কোম্পানি, সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও শেয়ারধারীদের কাছ থেকে আরও সহজে বৈদেশিক ঋণ নিতে পারবে।

বিদেশি ঋণ গত বছরের জুনের চেয়ে সেপ্টেম্বরে কমেছে। তবে সেপ্টেম্বরের চেয়ে ডিসেম্বরে বেড়েছে।

গত এপ্রিলে দেশি–বিদেশি ব্যাংকগুলো ৬৭৯ কোটি ডলারের আমদানি ঋণপত্র খুলেছে এবং ৬৫১ কোটি ডলারের নিষ্পত্তি করেছে। আমদানি বাণিজ্যে শীর্ষ পাঁচে ব্র্যাক ব্যাংক, এইচএসবিসি, দি সিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক ও এসসিবি। এর মধ্যে তিনটি দেশি এবং দুটি বিদেশি ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর ফলে বহুজাতিক ও দেশীয় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণপ্রাপ্তি সহজ হবে।

দেশের বড় ছয় শিল্পগোষ্ঠীর পাচারিত অর্থ ও বিদেশি সম্পদ খোঁজার উদ্যোগে ১০টি ব্যাংক ৩৬টি অপ্রকাশ্য চুক্তি সই করেছে। মোট ৫৯টি চুক্তির লক্ষ্য রাখা হয়েছে। বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় ১০ লাখ টাকা ঋণ দেবে সরকার।

ব্যাংক আলফালাহর শেয়ারহোল্ডাররা গত শুক্রবার ৭৮তম এজিএম-এ ৫৮৪ কোটি ২৫ লাখ টাকায় বাংলাদেশ শাখা ব্যাংক এশিয়ার কাছে বিক্রির প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন। এটি ব্যাংক এশিয়ার জন্য তৃতীয়বারের মতো বিদেশি ব্যাংক শাখা অধিগ্রহণ। প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ নিয়ন্ত্রকদের অনুমোদন প্রয়োজন।

মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও অভ্যন্তরীণ চাপ মোকাবিলায় লেনদেন ভারসাম্য রক্ষায় ২ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে সভায় এ কথা জানান। বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

গতকাল সোমবার এক প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো রপ্তানিকারকদের বিদেশি আমদানিকারক বা অন্য অনুমোদিত পক্ষের নামে শিপিং ডকুমেন্ট প্রস্তুত করতে সুযোগ দিতে পারবে।

আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি ছাড়াই ১০ কোটি টাকা নেওয়া যেত। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সীমা বাড়িয়েছে।

বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেন, নতুন সরকার আসার পর নগদের নীতি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতি কমেছে। প্রবৃদ্ধি কমেছে, মূল্যস্ফীতি অনেক দিন ধরে উচ্চপর্যায়ে রয়েছে এবং ব্যাংক খাত খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে আছে। বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ কম, সরকারি বিনিয়োগ অনেক ক্ষেত্রে অদক্ষ ও অপচয়মুখী, সরকারি ঋণ বেড়েছে, মানুষের প্রকৃত আয় কমছে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি অনেক কমে গেছে। এসব কারণে অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হয়েছে।