বাংলাদেশে তেল, শিল্পের কাঁচামাল, মূলধন যন্ত্রপাতি, খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হয় ব্যাংকের ঋণপত্র বা এলসির মাধ্যমে। বড় আকারের আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রার যথেষ্টতা, দক্ষতা এবং অবকাঠামোগত সুবিধা প্রয়োজন। আগে বিদেশি ব্যাংকগুলো বৈদেশিক বাণিজ্যে, বিশেষ করে ঋণপত্র খোলায় এগিয়ে ছিল। কিন্তু এখন দেশি ব্যাংকগুলোও বিদেশি ব্যাংকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমদানি বাণিজ্যে শীর্ষে উঠে এসেছে।

গত এপ্রিলে আমদানি ঋণপত্র খোলা ও নিষ্পত্তিতে শীর্ষে ছিল বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক। তারপর দ্বিতীয় স্থানে বহুজাতিক হংকং সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন বা এইচএসবিসি ব্যাংক। তৃতীয় স্থানে ছিল দেশি মালিকানাধীন দি সিটি ব্যাংক। এরপর চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে যথাক্রমে পূবালী ব্যাংক এবং বহুজাতিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ (এসসিবি)। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন অনুসারে, শীর্ষ পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে তিনটি দেশি এবং দুটি বিদেশি ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত এপ্রিলে দেশি–বিদেশি ব্যাংকগুলো ৬৭৯ কোটি মার্কিন ডলারের আমদানি ঋণপত্র খুলেছে। এই সময়ে ৬৫১ কোটি ডলারের ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে। গত এপ্রিলে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, পদ্মা ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বাদে অন্য সব ব্যাংকই আমদানি ঋণপত্র খুলেছে।

আমদানি বাণিজ্যের ২৮% পাঁচ ব্যাংকের

এপ্রিলে এলসি খোলায় শীর্ষে ছিল ব্র্যাক ব্যাংক। ব্যাংকটি গত মাসে ৪৭ কোটি ৫১ লাখ ডলারের ঋণপত্র খুলেছে এবং ৪৯ কোটি ৯ লাখ ডলারের নিষ্পত্তি করেছে।

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তারেক রেফাত উল্লাহ খান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘ব্র্যাক ব্যাংক বাণিজ্যসেবা সনাতনী পদ্ধতি থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে উত্তরণ করেছে। ক্রেতার চাহিদার পরিবর্তনের সঙ্গে সরবরাহকারীদের খাপ খাওয়াতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রেখে ঋণসীমা নিতে হয়েছে। এমন নানা উদ্যোগের ফলে আমাদের ব্যাংকের বাণিজ্য অর্থায়ন বেড়েছে।’

এইচএসবিসি গত মাসে ৩৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারের এলসি খুলেছে এবং ৪২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের নিষ্পত্তি করেছে। তৃতীয় স্থানের দি সিটি ব্যাংক ৪১ কোটি ৫ লাখ ডলারের ঋণপত্র খুলেছে এবং ৩৮ কোটি ৪ লাখ ডলারের নিষ্পত্তি করেছে।

পূবালী ব্যাংক ৩৫ কোটি ৭৯ লাখ ডলারের আমদানি ঋণপত্র খুলে চতুর্থ স্থানে ছিল। তবে নিষ্পত্তিতে তারা ৩৭ কোটি ৭১ লাখ ডলারের ঋণপত্র নিষ্পত্তি করেছে।

পূবালী ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ আলী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘মানুষের মৌলিক পাঁচ চাহিদা পূরণ করে, এমন ব্যবসায় আমরা বেশি অর্থায়ন করি। এ জন্য খাদ্যপণ্য, তৈরি পোশাক ও বস্ত্রের কাঁচামাল, নির্মাণসামগ্রী, চিকিৎসার প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানিতে আমরা বেশি বেশি অর্থায়ন সুবিধা দিয়ে থাকি। আবার এসব পণ্যের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। এ জন্য আমরা আমদানিতে সব সময় শীর্ষ পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে রয়েছি। এপ্রিলে চতুর্থ অবস্থানে থাকলেও কোনো কোনো মাসে আমরা দ্বিতীয় অবস্থানেও উঠে যায়।’

পঞ্চম স্থানে ছিল স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ বা এসসিবি। তারা এপ্রিলে ৩৪ কোটি ১১ লাখ ডলারের এলসি খুলেছে এবং ৩২ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের নিষ্পত্তি করেছে।

শীর্ষে আরও যারা

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ গত মাসে ৩১ কোটি ৫৯ লাখ ডলারের ঋণপত্র খুলেছে এবং ৩২ কোটি ২০ লাখ ডলারের নিষ্পত্তি করেছে। এতে তারা ষষ্ঠ স্থানে ছিল। শীর্ষ দশে ছিল ইস্টার্ন ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংক।

ঋণপত্র খোলা ও নিষ্পত্তিতে ১১ থেকে ২০ নম্বরে ছিল ঢাকা ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক। ২১ থেকে ৩০ নম্বরে ছিল বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, ব্যাংক এশিয়া, এবি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও সিটিব্যাংক এনএ।