বাংলা কিউআর লেনদেনে সাড়া কেমন, চ্যালেঞ্জ কোথায়
বাংলা কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করার পর এই সেবার আওতায় দিনে লেনদেন হচ্ছে ১১ থেকে ১২ কোটি টাকা। অথচ ব্যাংকের কার্ড ও এমএফএস গ্রাহকেরা দৈনিক ৩৪০ কোটি টাকার ডিজিটাল লেনদেন করেন।
বাংলা কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করার পর এই সেবার আওতায় দিনে লেনদেন হচ্ছে ১১ থেকে ১২ কোটি টাকা। অথচ ব্যাংকের কার্ড ও এমএফএস গ্রাহকেরা দৈনিক ৩৪০ কোটি টাকার ডিজিটাল লেনদেন করেন।
স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সহযোগিতায় বাংলা কিউআর-সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলা কিউআর প্রযুক্তি বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যা নগদনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ প্রদান করছে।
ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বাংলা কিউআর’ উদ্যোগটি সময়োপযোগী হলেও এর ব্যাপক প্রসারে খুচরা বিক্রেতাদের সম্পৃক্ততা এবং মাশুল সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে ওঠা প্রয়োজন।
২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাজধানীর মতিঝিলে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে ‘বাংলা কিউআর’ চালু হয়।
আয়করের বদলে মোট বিক্রির ওপর ন্যূনতম ‘টার্নওভার কর’ আরোপের ভয়ে ডিজিটাল লেনদেনের রেকর্ড রাখতে অনীহা ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসায়ীদের।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বাংলা কিউআর’ সেবায় দৈনিক লেনদেন ৩৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১১০ কোটি টাকা হয়েছে এবং মার্চেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ লাখে।
‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থা চালুর পর বাংলা কিউআরের মাধ্যমে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা হয়েছে।
আহসান এইচ মনসুর বলেন, ডিজিটাল লেনদেনে এখন ১ থেকে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ যে মাশুল আছে, তা সরকার ভর্তুকি হিসেবেও দিতে পারে।
নগদ টাকাবিহীন লেনদেনব্যবস্থা বাস্তবায়নের স্বার্থে এমডিআর জিরো করে দেওয়া উচিত।
বাংলাদেশ ব্যাংক ৩০ জুনের মধ্যে সব মার্চেন্ট পয়েন্টে বাংলা কিউআর চালুর নির্দেশ দিয়েছে। গতকাল বুধবার জারি নির্দেশনায় প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধান ও আন্তঃলেনদেন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ১ জুলাই থেকে এটি বাধ্যতামূলক হবে।
বাংলাদেশে ক্যাশলেস অর্থনীতির যাত্রা নতুন নয়। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট আর ডিজিটাল ওয়ালেটের পথ ধরে এবার বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে এসেছে ‘বাংলা কিউআর’।