বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল লেনদেনে সর্বজনীনতা নিশ্চিত করতে দেশের সব কিউআর কোডকে ‘বাংলা কিউআর’ করে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্দেশ্যে সকল ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান (এমএফএস) এবং লেনদেন ব্যবস্থাপনাকারী অপারেটর বা পিএসওদের বাংলা কিউআর চালু করতে বাধ্য করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার ব্যাংক এ ব্যাপারে নতুন নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ৩০ জুনের মধ্যে দেশের সব মার্চেন্ট পয়েন্টে—যেখানে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন হয়—নিজস্ব কোডের পরিবর্তে বাংলা কিউআর চালু করতে হবে। একই সময়ের মধ্যে বাংলা কিউআর-এর প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধান এবং আন্তঃলেনদেন সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের অর্থনীতি সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছিলেন, সরকারের রাজস্ব বাড়াতে নগদ লেনদেন কমিয়ে অনলাইন লেনদেন বাড়ানোর চাই। তিনি বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেছিলেন। গভর্নরের এ বক্তব্যের পরপরই গতকাল নির্দেশনা জারি হয়েছে। নির্দেশনায় উল্লেখ আছে, মার্চেন্ট পয়েন্টে বাংলা কিউআর ছাড়া ক্যাশআউট দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোড বাতিল করা হবে।

সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে জানা গেছে, বর্তমানে বেশিরভাগ ব্যাংক বাংলা কিউআর ব্যবহার করে কিন্তু এমএফএসগুলো নিজস্ব কোড ব্যবহার করে। ফলে বিভিন্ন মার্চেন্ট পয়েন্টে একাধিক কোড দেখা যায়। নতুন নির্দেশনা কার্যকর হলে ১ জুলাই থেকে সব মার্চেন্টে একক বাংলা কিউআর-এ লেনদেন হবে।

দেশের শীর্ষ কয়েকটি এমএফএস-এর ১০ লাখের বেশি মার্চেন্টে নিজস্ব কোড রয়েছে, যা বাংলা কিউআর দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে হবে। এমএফএসগুলো বলছে, এ প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ এবং খরচসাপেক্ষ। খাত বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন, সমন্বিত বাংলা কিউআর চালু হলে এমএফএসগুলোকে আয় ভাগাভাগি করতে হবে, যা তাদের আগ্রহ কমিয়েছে। ব্যাংকের সুবিধা এবং প্রযুক্তিগত সমন্বয় নিশ্চিত হলে এটি সহজ হবে।

নির্দেশনায় অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট আইনমুক্ত ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আগেও বাংলা কিউআর জনপ্রিয় করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কিন্তু তদারকি দুর্বলতা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং রাজস্ব ভাগাভাগির কারণে তা সম্ভব হয়নি।