পানিসংকটের টেকসই সমাধান দরকার
নওগাঁর পোরশা উপজেলার অনেক নারীকে প্রতিদিন কয়েক বালতি খাওয়ার পানির জন্য মাইলের পর মাইল হাঁটতে হয়।
নওগাঁর পোরশা উপজেলার অনেক নারীকে প্রতিদিন কয়েক বালতি খাওয়ার পানির জন্য মাইলের পর মাইল হাঁটতে হয়।
আমাদের কী করা উচিত, তা অনুধাবন করতে পারলেই প্রকৃত পরিবর্তন আসবে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে সামান্য সচেতনতাও জাতীয় পানিনিরাপত্তায় এক বিশাল অবদান রাখতে পারে।
বরেন্দ্র অঞ্চলের পানিসংকট প্রকৃতি ও মানুষের জীবিকাকে বিপন্ন করেছে। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি তোলায় অ্যাকুইফার ধ্বংস হচ্ছে এবং মরুকরণ শুরু হয়েছে। জরুরি টেকসই ব্যবস্থাপনা ও ‘ওয়াটার লর্ডশিপ’ ভাঙার মাধ্যমে অঞ্চলটি বাঁচানো জরুরি।
দেশের দীর্ঘমেয়াদি পানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, খাদ্যনিরাপত্তা রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, প্রকৌশলী ও শিক্ষাবিদেরা।
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের পানিশূন্যতা ও কষ্ট লাঘবে ভূমিকা রাখছে।
খাদ্য নষ্ট হলে খাদ্যের ওপর চাপ বৃদ্ধি পায়, পানির অপব্যবহার করলে পানিসংকট তৈরি হয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অসংযত ব্যবহারে জাতীয় সম্পদ বিনষ্ট হয়।
সম্প্রতি টানা ভারী বর্ষণে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবানসহ চট্টগ্রাম, কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত হয়। এই বিপর্যয় কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এক দশকের বেশি সময় ধরে প্রতি বর্ষায় একই অঞ্চলে বন্যা ও পাহাড়ধস আর শুষ্ক মৌসুমে তীব্র পানিসংকট দেখা দিচ্ছে। মৌসুমভেদে এই দুই বিপরীত বাস্তবতা একই পরিবেশগত সংকটের ভিন্ন প্রকাশ।
বরেন্দ্র অঞ্চলে নির্বিচার সেচের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমেছে। আইন লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে, যা পানিসংকট বাড়িয়েছে। সরকারকে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি খাঁড়ি-পুকুর পুনরুদ্ধার করে বিকল্প উৎস তৈরি করতে হবে।
নিসংকটাপন্ন ঘোষিত এলাকার আয়তন ২ হাজার ৭৮৭ বর্গকিলোমিটার; যেখানে প্রায় ২১ লাখ ৫ হাজার মানুষ পানিসংকটে ভুগছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে এখন লোনাপানি মিঠা করার প্ল্যান্টেও হামলা হচ্ছে, তাতে এ অঞ্চলে পানিনিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে।
ঢাকা আজ শুধু যানজট, বায়ুদূষণ বা আবাসন–সংকটের শহর নয়, এটি দ্রুত একটি পানিসংকটের শহরে পরিণত হচ্ছে।
বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমে অবনতির দিকে যাচ্ছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর ২৫টি উপজেলা, ৪৭টি ইউনিয়ন এবং ১ হাজার ৫০৩টি মৌজা ‘অতি উচ্চ পানিসংকটাপন্ন এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।