
সরবরাহ বাড়ায় পাম্পে চাপ নেই
মূলত সরবরাহ বৃদ্ধি ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোয় জ্বালানি তেলের ভিড় কমেছে।

মূলত সরবরাহ বৃদ্ধি ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোয় জ্বালানি তেলের ভিড় কমেছে।

তেলের জন্য ১৬ ঘণ্টা অপেক্ষা, রাস্তায় ঘুম

মোটরসাইকেল চালক ইমরান হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘দুই দিন ধরে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরছি। এখনো তেল নিতে পারিনি।’

গাড়িতে জ্বালানি তেল নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।

রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে গতকাল শনিবার রাত ২টায় শত শত মানুষ নির্ঘুম অপেক্ষায়। মহাখালী থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত দীর্ঘ যানবাহনের সারি গড়ে ওঠে। তেলের অভাবে সৃষ্ট এই অবস্থা অস্থিরতার প্রতিচ্ছবি।

গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে বন্ধ পাম্প থেকে যৌথ বাহিনী ৩৩ হাজার লিটার ডিজেল-অকটেন জব্দ করেছে। ৩ থেকে ২৯ মার্চ সারা দেশে ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযানে ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার তেল উদ্ধার হয়েছে। এসব ঘটনায় ১ হাজার ৫৩টি মামলা দায়ের হয়েছে।

রাজধানীতে জ্বালানির তীব্র সংকটে চালকরা কষ্ট পাচ্ছেন। বনশ্রীর আকরামুল ইসলাম রাত তিনটে থেকে সাত ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গাড়ির তেল পেয়েছেন। নিয়োগকর্তার ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি।

তেল সংকটে রাজধানীতে গাড়ি-মোটরসাইকেলের চালকরা রাত জেগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। বনশ্রী থেকে ৫ পাম্প ঘুরে ৭-৮ ঘণ্টা অপেক্ষায় তেল পাচ্ছেন না অনেকে। পাম্পগুলোতে রেশনিং চলছে যাতে সবাই পায়।

রাজধানীর আসাদগেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশনে পাম্প বন্ধ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষায় চালকরা। দেড়ঘণ্টা লাইন ধরে এগোনোর পর খবর পেলেন রাজ্জাক, তবু সারি ছাড়েননি। অন্য পাম্পে স্টিকার দিয়ে সারি নিয়ন্ত্রণ করছে কর্মীরা।

তেল না পেয়ে গতকাল শনিবার রাতে শরীয়তপুরের মনোহর বাজারে দেড় শতাধিক কৃষক হাজী আবদুল জলিল ফিলিং স্টেশন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রত্যেককে ৫ লিটার করে ডিজেল দিয়ে বিষয়টা সমাধান হয়। জেলায় জ্বালানির ঘাটতির কারণে কৃষি ও মৎস্যখাত সব ব্যাহত।

বন্ধ পাম্পেও তেলের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি

সকাল ১০টায় রাজধানীর আসাদগেট গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার দুটি পাম্প থেকে তেল দেওয়া বন্ধ রয়েছে। পাম্পগুলো থেকে চালকদের বলা হচ্ছিল, ‘তেল নেই।’