জাতীয় মানবাধিকার কমিশন: আইনে ‘স্বাধীন’ বলা হলেও বাস্তবে পরাধীন
পুলিশ, র্যাব, সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা কোনো শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যদি একজন নাগরিকের মানবাধিকার লঙ্ঘন করেন, সে ক্ষেত্রে ওই নাগরিক জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ জানাতে পারেন।
পুলিশ, র্যাব, সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা কোনো শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যদি একজন নাগরিকের মানবাধিকার লঙ্ঘন করেন, সে ক্ষেত্রে ওই নাগরিক জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ জানাতে পারেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ সংসদে বাতিলের পর পুরোনো আইন পুনর্বহাল হয়েছে। এতে কমিশনের ক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা হ্রাস পাবে বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞ। বিচারক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা করা হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়া অনুমোদন ঘিরে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে টিআইবি। তাদের বক্তব্য, স্বাধীনতা-কার্যকারিতা ও দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে কিছু বিধান বড় প্রতিবন্ধকতার আশঙ্কা তৈরি করছে, এবং গুম প্রতিরোধ আইনের কাঠামোয় দায়মুক্তি–সহায়ক ধারার কথাও তুলেছে সংস্থাটি।
একটি শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে রাজনৈতিক সরকারগুলো তো বটেই, অন্তর্বর্তী সরকারও তাদের সন্দেহাতীত অঙ্গীকার দেখাতে পারেনি।
অধিকার মনে করে, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের তুলনায় নতুন খসড়ায় আনা এসব পরিবর্তন একটি স্বাধীন ও কার্যকর মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার জন-আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন ও কমিশনারদের নিয়োগ প্রজ্ঞাপন স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আশেক-ই-রসুল হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন। অধ্যাদেশের ৬ ও ৭ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে রিটের শুনানি হতে পারে।
জাতিসংঘের ১৯৯৩ সালের প্যারিস নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি দেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন একটি স্বাধীন নজরদারি ও অনুসন্ধানী প্রতিষ্ঠান।
প্রায় দেড় বছর ধরে অচল থাকার পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন ও চার কমিশনার নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
জাতীয় সংসদে বিরোধী এনসিপি সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের উত্থাপিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬ পাস হয়েছে। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে ২০০৯ সালের আইন পুনর্বহাল হয়। হাসনাত রাজনৈতিক দমনের অস্ত্র হিসেবে এর ব্যবহারের আশঙ্কা জানান।
খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬ কার্যকর হলে মানবাধিকার সুরক্ষার পরিবর্তে লঙ্ঘনকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশে ১৩তম সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) অধ্যাদেশ।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরা পদত্যাগ করেছেন এবং খোলাচিঠি লিখেছেন। কমিশনের সচিব বলেছেন, এতে কমিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়েছে। বিদায়ী সদস্যরা ধোঁয়াশায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।