দেশে হাম-রুবেলার টিকাদান শুরু, কারা পাবে, কাকে দেওয়া যাবে না
কর্মসূচির আওতায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
কর্মসূচির আওতায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্য–সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে স্বচ্ছতার অভাব এবং টিকার সরবরাহ–ব্যর্থতার কারণ নিয়ে বিভ্রান্তিকর বয়ান।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিলম্ব না করে সরকারের ত্বরিত কর্মসূচি হাতে নেওয়া উচিত। গুরুত্ব না দিলে হাম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে।
শিশু হাসপাতালে হাম নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ শিশু ভর্তি, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ৪২টি। শয্যার অভাবে অনেককে ভর্তি করা যাচ্ছে না, স্বজনরা উদ্বিগ্ন। এ বছর হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৯ জন মারা গেছে শিশু হাসপাতালে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে হামে এত আক্রান্ত ও মৃত্যু নেই। ২০২৪ সালে ২৪৫ জন এবং ২০২৫ সালে ১২৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল।
জ্বর ও ত্বকে ফুসকুড়ি দেখলে হাম নয়, অন্যান্য সংক্রামক রোগও হতে পারে। জলবসন্ত, চিকেন পক্স, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের উপসর্গ জেনে নিন। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে সঠিক শনাক্তকরণ সম্ভব।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৮৭ শিশু ভর্তি, যাদের ৮২ ভাগ ময়মনসিংহের। অধিকাংশের বয়স ৯ মাসের নিচে, টিকা নেওয়ার আগেই আক্রান্ত। ১৭ মার্চ থেকে ১৩১ শিশু ভর্তি, ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত বছর চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় কোনোটিতেই হামের টিকার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি, কভারেজ ছিল ৮৯ শতাংশ। কর্মবিরতি ও অন্যান্য কারণে টিকাদান ব্যাহত হয়েছে। এদিকে ৯ মাসের আগের শিশুরাও হামে আক্রান্ত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় হামের উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু; ১৫ মার্চ থেকে মোট মৃত্যু ৭৪৫। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু ঢাকা বিভাগে। সময়মতো টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কোনো রোগে যে কারও মৃত্যু হতেই পারে। কিন্তু সে রোগটি যদি প্রতিরোধযোগ্য হয়, আর যদি সেই প্রতিরোধের ন্যূনতম চেষ্টা না করা হয়
মা হারানো শিশু ইউসুফ হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে ছটফট করছে।
হাইকোর্ট হামের টিকা পরিস্থিতির প্রতিবেদন দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন, তদন্ত কমিশন গঠনের রুলও জারি।