গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের তিনজনেই ঢাকার বাসিন্দা। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭৪৫টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আজকের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু এবং আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে হামের উপসর্গে ২৮৩ জন এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ৫৭ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০৬ এবং উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৯৬। গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৫২টি শিশুর মৃত্যুর কথা জানা গেছে এবং হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৯৩টি শিশু।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১৬ দিনে হামের উপসর্গে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১ লাখ ৮ হাজার ১৮০ জন। তাঁদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯১ হাজার ২৭০ জন এবং ১৩ হাজার ৭০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৬২৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ৭৯৬ জন। এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৪৮টি শিশু, যার মধ্যে ঢাকা বিভাগের শিশুর সংখ্যা ২৬৪ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে ১৬২, বরিশাল থেকে ১১৫ এবং সিলেট থেকে ৬৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ৭৮৪ জন হামে আক্রান্ত রোগী হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছেন।

চিকিৎসকদের মতে, মিজলস নামক ভাইরাসের কারণে হাম হয়, যা প্যারামিক্সোভিরিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা সংস্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত সংক্রমণের ৮ থেকে ১২ দিনের মধ্যে এর লক্ষণ প্রকাশ পায়। প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, শুকনো কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ এবং মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়া লালচে ফুসকুড়ি।

হাম থেকে সুরক্ষার বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ডা. ইমনুল ইসলাম ইমন বলেন, "হাম থেকে সুরক্ষায় শিশুকে সময়মতো টিকা দিতে হবে। প্রথম টিকা দিতে হবে শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হলে। এরপর টিকার দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে ১৫ মাস বয়সে। সব সময় হাত-মুখ পরিষ্কার রাখতে হবে। চোখে হাত দেওয়া যাবে না। হাঁচি-কাশিসংক্রান্ত শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে। শিশুর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে অন্তত পাঁচ দিন আলাদা করে রাখতে হবে। জ্বর ও ফুসকুড়ি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।"