‘গতর খাইটা সংসার চালাই, কারও কাছে হাত পাততে লজ্জা লাগে’
বাক্ ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে চাঁদপুরের মতলবে ঝালমুড়ি বিক্রি করে পরিবার চালাচ্ছেন সুভাষ চন্দ্র বর্মণ, তবু কারও কাছে হাত পাতেন না তিনি।
বাক্ ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে চাঁদপুরের মতলবে ঝালমুড়ি বিক্রি করে পরিবার চালাচ্ছেন সুভাষ চন্দ্র বর্মণ, তবু কারও কাছে হাত পাতেন না তিনি।
কাজের খোঁজে শ্রমজীবী মানুষেরা প্রতিদিন যেখানে ভিড় জমান, সেই ‘মানুষ বেচাকেনার হাটে’।
‘দিন দিন যেভাবে সবকিছুর দাম বাড়তেছে, সেভাবে তো আর আমাদের ইনকাম বাড়ে না। হিমশিম খেতে হয় আমাদের। বড়লোকদের তো আর কিছু হয় না। ধনীরা আরও ধনী হয়, আর গরিবেরা আরও গরিব হয়।’
খুলনার কয়রা উপজেলার ফতেকাঠি গ্রামের সড়ক ধরে গিলাবাড়ি লঞ্চঘাটের দিকে যেতে যেতে হঠাৎ চোখ আটকে যায় রাস্তার ধারে।
কুমিল্লার দিনমজুর ফয়েজ উল্লাহর দুই ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। একজন মাস্টার্সে, অন্যজন অনার্সে। বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বড় ছেলে।
রাজধানীতে রিকশাচালক আনসার আলী (৭৪) একটি পরোটা দিয়ে দুপুরের খাবার সারছেন। ‘যত কম টাকায় খাওয়া যায় চেষ্টা করি’, বলে তিনি জানান। ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা ও হাজিরা শ্রমিকদের জীবনও একই রকম কষ্টের।
১২ বছরের মারুফ মিনিবাসে সহযোগী হয়ে সংসার চালাচ্ছে, ৬০+ জয়নাল আবেদীন মিন্তির কাজ করে টিকছেন, আবদুল হালিম চাকরি হারিয়ে পান বিক্রি করছেন। রাজধানীর ব্যস্ততার মাঝে তাঁদের জীবনযাত্রার অনিশ্চয়তা। ‘যা আয় হয়, খায়ে কিছু থাহে না’।
চট্টগ্রাম নগরে জুতা সেলাই ও পরিচ্ছন্নতার কাজ করে সংসার চালান কাঙ্গাল দাস। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মাছ-মাংস কেনা বন্ধ হয়ে গেছে তাঁর পরিবারের। এ কারণে ডাল-সবজিতেই দিন চালাচ্ছেন তিনি।
জামালপুরের ব্রহ্মপুত্র নদে পানি কমে মাছহীন হয়ে গেছে, জীবিকায় সংকটে পড়েছেন নদনির্ভর মানুষ। দুদু মিয়ার মতো অনেকে ২০–৩০ বার জাল ফেলেও দু-একটা ছোট মাছ পান না। বালু উত্তোলন ও খনন সত্ত্বেও নদের অবস্থা উন্নয়ন ঘটেনি।
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণের লিটন চন্দ্র দাস ২৮ বছর ধরে জুতা সেলাই ও কালি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। দৈনিক ২৫০-৩০০ টাকা আয়ে অসুস্থ মায়ের ওষুধ কিনতে গিয়ে সংসার চলে না। বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বে খরচে তারা অনাহারে-অর্ধাহারে থাকছেন।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা! স্থান, হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ভানুরা বিল হাওর। হালকা মেঘলা আকাশ, চারদিকে শুধু পানি আর পানি।
নামের শেষে মা–বাবা কেন ‘সাহেব’ শব্দ যুক্ত করেছেন, তা এখনো বুঝতে পারেননি ষাটোর্ধ্ব শাক বিক্রেতা হক সাহেব।