হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যু ৫০০ ছুঁই ছুঁই
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
৯ মাস বয়স পূর্ণ না হওয়া শিশুরাও হামে আক্রান্ত হচ্ছে। হামের টিকা ৯ মাস পর দেওয়া হয়, তবে ছোট শিশুদের সুরক্ষায় হাত ধোয়া, বাড়িতে রাখা, পুষ্টি ও ভিটামিন এ নিয়ে সতর্ক থাকুন। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন।
কর্মসূচির আওতায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
টিকাদানে জনবলসংকটের কারণে মাঠকর্মীদের চাপ বেড়েছে, হামে ১৪৪ শিশুর মৃত্যু। সরকার স্বাস্থ্যে ১ লাখ নতুন কর্মী নিয়োগ শুরু করেছে। বিভিন্ন বিভাগে শূন্য পদের তথ্য উন্মোচিত।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৮৭ শিশু ভর্তি, যাদের ৮২ ভাগ ময়মনসিংহের। অধিকাংশের বয়স ৯ মাসের নিচে, টিকা নেওয়ার আগেই আক্রান্ত। ১৭ মার্চ থেকে ১৩১ শিশু ভর্তি, ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও এর ফলে শিশু মৃত্যুর সাম্প্রতিক মিছিল জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে। বাংলাদেশ যখন টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগকে কার্যত নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দেখিয়েছে, তখন গত কয়েক মাসে কয়েক শ শিশুর প্রাণহানি কেবল স্বাস্থ্য সংকট নয়, এটি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার নির্মম প্রতিচ্ছবি।
বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী বলছেন, টিকাদানের হার কম হওয়ায় এমনটা হচ্ছে এবং এখনই সাপ্লিমেন্টারি ভ্যাকসিনেশন চালু না করলে ব্যাপক আউটব্রেকের আশঙ্কা। বড়রাও টিকা নিতে পারেন, তবে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে।
হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে এবং সাধারণ মানুষের আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাসের শিশুদের টিকা দেওয়া হবে।
হাম শুধু চর্মরোগ বা সাধারণ জ্বর নয়, এটি স্নায়ুতন্ত্রে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে যা শিশুদের মধ্যে স্থায়ী ক্ষতি বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এনকেফালাইটিস, এডিইএম ও এসএসপিই-এর মতো তিনটি প্রধান স্নায়বিক ঝুঁকি সম্পর্কে জানুন। সময়মতো টিকা নেওয়াই একমাত্র প্রতিরোধের উপায়।
সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৮৬৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ৯৭ হাজার ৫২২।
মা হারানো শিশু ইউসুফ হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে ছটফট করছে।
হামের উপসর্গে ঢাকায় ১০, রাজশাহীতে এক, সিলেটে এক, বরিশালে এক, ময়মনসিংহে দুই ও রংপুরে একজন মারা গেছে।