যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বন্দ্বে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংকটে সৌদি আরব
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের মাঝে ড্রোন হামলা এবং তেল রপ্তানির পথে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে সৌদি আরব।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের মাঝে ড্রোন হামলা এবং তেল রপ্তানির পথে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে সৌদি আরব।
এসকোবারের অভিযোগ, কথিত এ হত্যাচেষ্টার চক্রান্তের পর পাকিস্তান নাকি তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, তাদের প্রতিনিধিদলের ওপর কোনো হামলা হলে তার চরম জবাব দেওয়া হবে।
ইরান যুদ্ধকালে মধ্যপ্রাচ্যের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ বন্ধ করেছে মার্কিন কোম্পানি প্ল্যানেট ল্যাবস। ট্রাম্প প্রশাসনের অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে প্রতিপক্ষ হামলা না চালাতে পারে। নাসার সাবেক বিজ্ঞানী ২০১০ সালে কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন।
ইরান যুদ্ধে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর নিরাপত্তার মিথ ভেঙে পড়েছে। আমেরিকান সামরিক উপস্থিতির উপর নির্ভরশীলতা এখন প্রকাশ করে দিয়েছে জোটের অসমতা। ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখের হামলা এই বাস্তবতা সামনে তুলে ধরেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কাছাকাছি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালী চালু এবং পরমাণু আলোচনার পথ খুলবে। এতে তেলের দাম কমেছে, তবে ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় দেশগুলোর পুনর্গঠনে ইরানি সম্পদ ব্যবহারের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে হামলা-পাল্টাহামলায় নাজুক যুদ্ধবিরতি আরও নাজুক হয়ে পড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মাদারীপুরের প্রবাসীরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। মিসাইল হামলা, কাজ বন্ধ ও অনিশ্চয়তায় পরিবারগুলো উদ্বিগ্ন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে মধ্যস্থতা করতে পাকিস্তান চাপে পড়েছে। ইসরায়েলের বেসামরিক হামলা ও মার্কিন সেনা মোতায়েনের মধ্যে পাকিস্তান শান্তি আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসলামাবাদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শুরু হয়েছে।
ট্রাম্প ইসরায়েলকে এমন সুযোগও দেন, যাতে তারা পুরো অঞ্চলে নির্বিচার সামরিক অভিযান চালাতে পারে। গত বছর মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ছয়টি আরব দেশে ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জেরে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক বিমান হামলা এবং পাল্টা ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েলে যুদ্ধের প্রতি সমর্থন কমছে, বিশেষ করে ইহুদিদের মধ্যে। জরিপে দেখা গেছে, দ্রুত যুদ্ধবিরতির দাবি বাড়ছে এবং ইরানের শাসন উৎখাতের আশা কমেছে। জনগণ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও দীর্ঘ যুদ্ধে ক্লান্ত।
কয়েক বছর আগে অনেক আরব দেশ, বিশেষ করে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো হয়তো ইরানে হামলা চালিয়ে সেখানকার শাসন পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ইতিবাচকভাবে দেখত।