‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ হতে চেয়ে কেন যুদ্ধের পথে হাঁটলেন ট্রাম্প
নির্বাচনী প্রচারের সময় সব যুদ্ধ বন্ধ করার কথাই বলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প; কিন্তু তিনি ইরানে হামলা করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারের সময় সব যুদ্ধ বন্ধ করার কথাই বলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প; কিন্তু তিনি ইরানে হামলা করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কাছাকাছি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালী চালু এবং পরমাণু আলোচনার পথ খুলবে। এতে তেলের দাম কমেছে, তবে ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়ই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি সৌদি আরবের নিজস্ব যুদ্ধবিমানগুলো পূর্ব ইরাকে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে।
ইরান যুদ্ধকালে মধ্যপ্রাচ্যের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ বন্ধ করেছে মার্কিন কোম্পানি প্ল্যানেট ল্যাবস। ট্রাম্প প্রশাসনের অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে প্রতিপক্ষ হামলা না চালাতে পারে। নাসার সাবেক বিজ্ঞানী ২০১০ সালে কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ‘ভালো বন্ধু’ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করার পর ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানো বন্ধ করেছে।
ট্রাম্প ইসরায়েলকে এমন সুযোগও দেন, যাতে তারা পুরো অঞ্চলে নির্বিচার সামরিক অভিযান চালাতে পারে। গত বছর মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ছয়টি আরব দেশে ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়।
হঠকারী এবং দিশাহারা ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে নিজের শুরু করা এই বিপর্যয়কর যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। মার্কিন সামরিক বাহিনী আবারও দেশটিতে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। আগের মতোই, এই বেআইনি হামলাগুলো কট্টরপন্থী একটি সরকারের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক অভিযান চীনের জন্য আরেকটি কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে। ইরানে নতুন করে আক্রমণ চালাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—উভয়ের অস্ত্রভান্ডার দ্রুত ফুরাবে।
ইরানের আইআরজিসি মধ্যপ্রাচ্যে গুগল, মেটা, অ্যাপলসহ ১৮টির বেশি মার্কিন প্রযুক্তি ও অ্যারোস্পেস প্রতিষ্ঠানে হামলার হুমকি দিয়েছে। ১ এপ্রিল রাত ৮টা থেকে হামলা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রযুক্তি ইরানের নেতাদের গুপ্তহত্যায় সহায়তা করছে বলে অভিযোগ।
ইরান মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন ‘প্রতিরোধ সমীকরণ’ তৈরি করতে চাইছে। সেই অনুযায়ী, লেবাননের যেকোনো জায়গায় ইসরায়েল হামলা চালালে ইরান সরাসরি তার ওপর পাল্টা আঘাত হানবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে ‘সভ্যতা ধ্বংস’ হুমকি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে বলে শীর্ষ গণমাধ্যম ও আইনবিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘনের আশঙ্কায় মার্কিন রাজনীতিক ও জাতিসংঘও প্রতিবাদ জানিয়েছে। বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা নিষিদ্ধ বলে জোর দিয়ে বলা হয়েছে।