বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট অব্যাহত, দামও বেড়েছে
বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে গেছে, ক্রেতারা ছোট আকারের বোতল পাচ্ছেন না। কিছু জায়গায় এমআরপির চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। খোলা তেলের দামও বেড়েছে।
বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে গেছে, ক্রেতারা ছোট আকারের বোতল পাচ্ছেন না। কিছু জায়গায় এমআরপির চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। খোলা তেলের দামও বেড়েছে।
উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সারা বছর ডিজেল সরবরাহ রাখতে ভারত থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে পার্বতীপুরের রেলহেড তেল ডিপোতে ডিজেল সরবরাহ করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যে কৃচ্ছ্রসাধনমূলক নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।
ইরানের যুদ্ধবিরতির জবাব ট্রাম্পকে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে, ফলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩.৮% বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫.২০ ডলারে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় তেল সরবরাহ ব্যাহত, জ্বালানি কোম্পানিগুলোর মুনাফা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন তেল রপ্তানিকারক হয়েছে।
চাঁদপুরের পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপোতে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে যা আরও এক সপ্তাহ চলবে। প্রতিদিন লরি ও ব্যারেলের মাধ্যমে চাঁদপুরসহ লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ফেনী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাম্পে তেল সরবরাহ চলছে। ডিপো ইনচার্জরা সরকারি বরাদ্দ অনুসারে সরবরাহ নিশ্চিত করছেন।
নতুন উৎস থেকে সরাসরি তেল কেনার প্রক্রিয়ায় ৮টি বিদেশি কোম্পানি কাজ পেলেও তেল সরবরাহ করেনি। এখন উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে।
সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও জ্বালানি মজুতদারদের কারণে নাগরিকরা কষ্ট পোহাচ্ছেন। বোরো চাষে সেচের জন্য ডিজেলের সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারকে কঠোর নজরদারি ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় বাড়াতে হবে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের দাম বেড়ে গেছে। ঋণের খোঁজ করতে ইআরডিকে চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয়ের।
অকটেনের মজুত বাড়ছে, ১৭ এপ্রিল আরও জাহাজ আসছে। কিন্তু সরবরাহ কমায় ফিলিং স্টেশনে লাইন লম্বা। মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভীতি কমলে ভোগান্তি কমবে।
দেশের বাজারে প্রায় দুই মাস ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট চলছে। এমআরপি-এর চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্যাবের। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে তারা ছয় দফা দাবি তুলে ধরে।
চট্টগ্রাম বন্দরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ২৫ হাজার টন ফার্নেস তেল নিয়ে এসেছে ‘এমটি ইস্টার্ন কুইন্স’ জাহাজ। ইন্দোনেশিয়ার ‘পিটি বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন’ তেল সরবরাহ করেছে। বিপিসি জানিয়েছে, দেশে ফার্নেস তেলের কোনো সংকট নেই।
চীন তার চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ তেল আমদানি করে থাকে। তারা ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা—এত কিছুর পরও চীনের তেল সরবরাহ পরিস্থিতি আপাতদৃষ্টিতে বেশ স্বাভাবিক।