যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হচ্ছে, সমঝোতার আভাস নেই
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। দুই দেশকে ইসলামাবাদে আলোচনায় বসাতে তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। দুই দেশকে ইসলামাবাদে আলোচনায় বসাতে তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান।
ইসলামাবাদে প্রথম বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা আলোচনা রয়েছে অনিশ্চয়তায়। মার্কিন প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তেহরানের একের পর এক অপরিপক্ব ও অগোছালো বক্তব্য এ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল সম্ভবত আগামী সোমবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার কারিগরি পর্যায়ের আলোচনায় বসতে যাচ্ছে।
ইসলামাবাদে প্রথম আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দ্বিতীয় দফা সরাসরি বৈঠকের চেষ্টা করছে। ৭ এপ্রিল ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এটি সম্ভব করতে পাকিস্তান সক্রিয়। ব্লুমবার্গ এ খবর পেয়েছে জানা সূত্র থেকে।
ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরও নতুন দর-কষাকষির সম্ভাবনা রয়েছে। লেখকের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, ইরানিদের কাছে চুক্তি মানেই নতুন আলোচনার শুরু। ট্রাম্পের চরম অবস্থান এবং ইরানের কৌশল টেকসই শান্তি বাধা দিচ্ছে।
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার সময় নেতানিয়াহুর ফোনকল পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ২১ ঘণ্টার আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে এবং ওয়াশিংটন এই ফোনকলের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে চাপে ফেলেছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টা আলোচনা সত্ত্বেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে পৌঁছায়নি। ইরান সরকার সমর্থকদের সড়কে অবস্থান করে থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আরও উদ্যোগী হতে বলেছে। আইনপ্রণেতারা যুদ্ধে ইরানের সুবিধাজনক অবস্থান নিয়ে খুশি।
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় ওয়াশিংটন পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কোনো আপস করবে না—এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। থায়ার মার্শাল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডেভিড ডেস রোচেস বলেছেন, এটি ইরানের জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল। ২১ ঘণ্টার আলোচনা সত্ত্বেও জেডি ভ্যান্সের অংশগ্রহণ প্রশাসনের আন্তরিকতা দেখায়।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি হোটেলে গতকাল দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি এ আলোচনা শুরু হয়। ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের
বিশ্বের সংকটময় এক সময়ে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ একটি যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করছে। জেডি ভ্যান্স গুরুত্বপূর্ণ অতিথি হয়েই এখন রয়েছেন ইসলামাবাদে। এই প্রথম নয়, অতীতেও নানা সময়ে পাকিস্তানের শরণ নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হামলায় আহত হয়েও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিচ্ছেন, রয়টার্স জানায়। তাঁর মুখ ও পায়ের আঘাত এখনো সেরেনি, তবে অডিও কনফারেন্সে রাষ্ট্রীয় বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে।
পাকিস্তানের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা বিশ্বের নেতিবাচক মনোভাবকে ইতিবাচক করে দিয়েছে। ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, ৯০% থেকে ৭০% এর বেশি ইতিবাচক মতামত। সবার নজর এখন ইসলামাবাদে স্থায়ী চুক্তির আলোচনায়।