পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান আলোচনায় ওয়াশিংটন তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। থায়ার মার্শাল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডেভিড ডেস রোচেস আল–জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, আলোচনায় বসলেও যুক্তরাষ্ট্র নীতিগত অবস্থান থেকে একটুও সরেনি।

অধ্যাপক ডেস রোচেস বলেন, ‘এখানে আলোচনার লক্ষ্যবস্তু বা গোলপোস্ট একদম নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমার মনে হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার—যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়া।’

তিনি আরও বলেন, ইরানি প্রতিনিধিরা সম্ভবত আশা করেছিলেন, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে আলোচনা আগের দুই মধ্যস্থতাকারী জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের চেয়ে সহজ হবে। কুশনার ও উইটকফ এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু ইসলামাবাদে এসে তারা বুঝতে পেরেছেন পরিস্থিতি আলাদা।

ডেস রোচেস বলেন, ‘মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ইরানের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। মার্কিন নাগরিকেরা তাঁদের নীতিগত অবস্থানে ঐক্যবদ্ধ।’ তাঁর মতে, আলোচনার মূল চাবিকাঠি হলো কার সঙ্গে এবং কী পরিস্থিতিতে আলোচনা হচ্ছে তা সঠিকভাবে বোঝা। তিনি আশা করেন, ভবিষ্যতে এর চেয়ে ভালো ফল হতে পারে।

২১ ঘণ্টার আলোচনা ভেস্তে গেল, পরস্পরকে দোষারোপ যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের। জেডি ভ্যান্সের ইসলামাবাদ ত্যাগ করা মানেই আলোচনা ব্যর্থ, এমনটা মানতে নারাজ এই অধ্যাপক। তিনি বলেন, ‘সব আলোচনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকবেন—এমনটা ভাবা বাস্তবসম্মত নয়। আমার ধারণা, তিনি এখানে অংশ নিয়েছেন এটা বোঝাতে যে বর্তমান প্রশাসন এই ইস্যুতে কতটা আন্তরিক।’

ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক