যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা বিশ্বমঞ্চে দেশটির ভাবমূর্তি নাটকীয়ভাবে পাল্টে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর পাকিস্তানের প্রতি বিশ্ববাসীর দীর্ঘদিনের নেতিবাচক ধারণা এখন ইতিবাচক মনোভাবে রূপান্তরিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ইপসোসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, গত মাসের শেষ দিকে পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিশ্বে ৯০ শতাংশ মানুষের নেতিবাচক ধারণা ছিল। কিন্তু ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ এখন পাকিস্তানের বিষয়ে ইতিবাচক মতামত প্রকাশ করছেন।

ইপসোসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্বে পাকিস্তানের প্রতি বিশ্বের নেতিবাচক মনোভাবের পেছনে কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণ ছিল। সমালোচকদের মতে, দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা, আফগানিস্তানের সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব এর মূল কারণ। বিশেষ করে, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে বড় প্রশ্ন ছিল।

এমনকি ভারতের অনেক নাগরিকও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে পাকিস্তানের এ কূটনৈতিক সাফল্যের প্রশংসা করছেন।

পাকিস্তানের প্রতি এই নেতিবাচক মনোভাব বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও দেশটির অভ্যন্তরেই সবচেয়ে বেশি ছিল। দেশটির অনেক নাগরিক সরকারের বৈধতা ও রণকৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

যুদ্ধের পর আত্মবিশ্বাসী ইরান দর-কষাকষিতে সুবিধাজনক অবস্থানে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ‘থ্যাংক ইউ পাকিস্তান’ হ্যাশট্যাগটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এ যুদ্ধবিরতির জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের সমন্বিত উদ্যোগের প্রশংসা করছে।

বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এ যুদ্ধবিরতির ফলে হরমুজ প্রণালি আবারও খুলে যাবে এবং এর মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের অবসান ঘটবে। ১৪ দিনের এ সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলাকালীন এখন সবার নজর ইসলামাবাদের দিকে।

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের ফল কী হতে পারে, বাধাই–বা কী। বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এ যুদ্ধবিরতির ফলে হরমুজ প্রণালি আবারও খুলে যাবে এবং এর মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের অবসান ঘটবে। ১৪ দিনের এ সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলাকালীন এখন সবার নজর ইসলামাবাদের দিকে। সেখানে স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে চলেছে।

ইপসোসের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান বিশ্বমঞ্চে নিজের ভাবমূর্তি আমূল বদলে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। দেশটি এখন ‘একঘরে’ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি কাটিয়ে বিশ্বমঞ্চে একটি ‘প্রধান মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।