বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দৈনিক প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান গুনছে।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, গত মার্চ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত আমদানি করা জ্বালানি তেলের এলসি পরিশোধের হিসাবে বিপিসির প্রকৃত লোকসানের পরিমাণ ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকার বেশি।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, গত মার্চ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত আমদানি করা জ্বালানি তেলের এলসি পরিশোধের হিসাবে বিপিসির প্রকৃত লোকসানের পরিমাণ ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকার বেশি।
প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি শুক্রবার সকাল থেকে অপরিশোধিত তেল শোধন শুরু করেছে। সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন তেল নিয়ে জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে। ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে, যদিও দেশের জ্বালানি চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ এখান থেকে আসে।
রাতারাতি জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করায় জীবন-জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
গাড়িতে জ্বালানি তেল নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।
জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আগামী মাস থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর চিন্তা করা হবে। দেশে সব ধরনের জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সেচ মৌসুমে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নওগাঁয় অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। মোটরসাইকেলে একবার ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে, ১২৫ কিলোমিটার চালানোর পর আবার তেল পাওয়া যাবে। গ্রাহকরা স্বচ্ছতার প্রশংসা করলেও লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটে গ্রীষ্মের আগেই লোডশেডিং শুরু হয়েছে। চাহিদার দ্বিগুণ ২৯ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা থাকলেও গ্রামে ঢাকার চেয়ে বেশি কাটতি হচ্ছে। সরকার সাশ্রয়ের পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রথম মাসে বাংলাদেশে ১১টি জাহাজে ৩ লাখ ২৭ হাজার টনের বেশি জ্বালানি তেল এসেছে। ভারত থেকে পাইপলাইনে ২২ হাজার টন ডিজেল পাওয়া গেছে। নির্ধারিত ৮টি জাহাজ না পৌঁছানোর কারণে সরবরাহে চাপ পড়েছে।
শরীয়তপুরের ছয়টি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ আছে। এ কারণে ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরা যাত্রী ও গণপরিবহনের চালকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম দেশে এক মাসে দ্বিতীয়বার বাড়ল। মাসের শুরুতে লিটারে বেড়েছিল ১৭ টাকা, এবার বেড়েছে ৯০ টাকা।
যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের সব বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি ইরানের।
সরকারের সিদ্ধান্তহীনতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বালানি তেল ফুরিয়ে যাওয়ার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।