ডাক্তার হতে চায়, থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত মুরসালিন
থ্যালাসেমিয়ার মতো দুরারোগ্য ব্যাধির সঙ্গে লড়াই করেও ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে নওগাঁর নিয়ামতপুর থানার গুড়িহারী শালবাড়ী গ্রামের মো. মুরসালিন।
থ্যালাসেমিয়ার মতো দুরারোগ্য ব্যাধির সঙ্গে লড়াই করেও ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে নওগাঁর নিয়ামতপুর থানার গুড়িহারী শালবাড়ী গ্রামের মো. মুরসালিন।
রাজশাহীর সাধারণ পরিবারের রিশাদ আহম্মেদ আরশ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখে। মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের সহায়তায় তার শিক্ষা অব্যাহত রয়েছে। সে অসহায় মানুষের সেবা করতে আকাঙক্ষিত।
শিক্ষা মানুষের জীবনকে আলোকিত করে এবং সমাজকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। আর এই বিশ্বাস থেকেই নিজের ভেতরে শিক্ষার আলো ধারণ করে ভবিষ্যতে সে একজন আদর্শ শিক্ষিকা হতে চায়।
নানা সংকট আর চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে উঠেও সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে এক কিশোরী। তার নাম তহমিনা আক্তার। সে কুড়িগ্রামের দুর্গম চর কুমরেরবসের বাসিন্দা এবং স্থানীয় মুক্তকণ্ঠ চর আলোর পাঠশালার অষ্টম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী।
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইংসাইংওয়াং মারমা আন্তর্জাতিক মানের চিত্রশিল্পী হয়ে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করার স্বপ্ন দেখছেন।
নওগাঁর গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালার দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী মুশফিকা খাতুন দারিদ্র্যের বাধা পেরিয়ে চিকিৎসক হয়ে অসহায় মানুষের বিনামূল্যে সেবা করার স্বপ্ন দেখছেন।
মুক্তকণ্ঠ চর আলোর পাঠশালার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাশিদুল ইসলাম। ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে জেগে ওঠা চরাঞ্চলে, যেখানে জীবনযাত্রার প্রতিটি ধাপে সংগ্রাম, সেখানেই বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে উঠছে সে। রাশিদুল ইসলামের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো—বাংলাদেশের একজন সফল ক্রিকেটার হওয়া।
সব ধরনের প্রতিকূল পরিবেশ আর সীমিত সুযোগ-সুবিধাকে জয় করে নিজের স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মো. মানিক মিয়া। মুক্তকণ্ঠ চর আলোর পাঠশালা থেকে উঠে আসা এই তরুণ নিজের মেধা ও পরিশ্রমের জোরে ভবিষ্যতে একজন আইনজীবী হিসেবে সমাজে অবদান রাখতে চান।
পাহাড়ের বুকে লুকিয়ে আছে কত শত সুপ্ত প্রতিভা, যার অনন্য এক দৃষ্টান্ত বান্দরবানের খুদে ফুটবলার ডনসাতি ত্রিপুরা। আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলার হয়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করাই এখন তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। ডনসাতি ত্রিপুরা ২০২৬ সালে বান্দরবানের কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়।
মেঘনা নদীর ওপারে অবস্থিত ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের মাঝেরচর। চারদিকে নদীবেষ্টিত এই প্রত্যন্ত চরাঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অবহেলিত এই জনপদে শিক্ষার আলো পৌঁছানো যেখানে ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ, সেখানে এখন নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট পরিচালিত মদনপুর আলোর পাঠশালা।
পারিবারিক ইচ্ছা আর ধর্মীয় শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিক শিক্ষায় নিজেকে আলোকিত করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মোহাম্মদ রাসেল। সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে সে এখন মদনপুর আলোর পাঠশালার ৭ম শ্রেণির একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। রাসেল মদনপুরের স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সিরাজ বেপারী ও বিবি শাহিদা বেগমের ৮ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট।
মজু চৌধুরীর হাট বাজারের কোলাহল আর মেঘনা নদীর বাতাস গায়ে মেখে বেড়ে ওঠা এক কিশোর মোঃ লাবিব ওয়াহেদ। দশকের পর দশক ধরে সততার সাথে চা বিক্রি করে সংসার চালানো মোঃ আলমের কনিষ্ঠ পুত্র সে। চারপাশের হাজারো মানুষের আনাগোনা আর আলো ঝলমলে বাজারের আড়ালে এক অন্ধকার বাস্তবতাকে খুব কাছ থেকে দেখেছে লাবিব।