
আলু রপ্তানিতে নীতিসহায়তা প্রয়োজন
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে হলে রপ্তানিতে একক পণ্য ও একক বাজারনির্ভরতা কাটিয়ে ওঠাটা জরুরি।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে হলে রপ্তানিতে একক পণ্য ও একক বাজারনির্ভরতা কাটিয়ে ওঠাটা জরুরি।

দেশের শীর্ষ আলু উৎপাদনকারী অঞ্চল রংপুর হলেও রপ্তানিতে পিছিয়ে রয়েছে। চুক্তিভিত্তিক চাষের অভাব, উপযুক্ত জাতের ঘাটতি, সংরক্ষণ সংকট ও কম দামের কারণে কৃষকের আগ্রহ কমছে—সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাড়ছে না রপ্তানি।

সামুদ্রিক গবেষণা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ড্রিউরির তথ্যমতে, ১০ এপ্রিল শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল রপ্তানি দৈনিক ৫২ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে, গত সাত মাসের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ থেকে জিনস রপ্তানি শুরু হয় চার দশক আগে। বর্তমানে ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডেনিম পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

এশিয়া ও ইউরোপের শোধনাগারগুলো বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহে ঝুঁকছে। ফলে বিশ্বের বৃহত্তম উৎপাদক যুক্তরাষ্ট্রের তেলের চাহিদা হঠাৎই বেড়ে গেছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, তেল উৎপাদন কমিয়ে টানা দুই মাস রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখলেও ইরানের অর্থনীতিতে খুব বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।

এসব চালানের বেশ কিছু সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো ট্রানশিপমেন্ট বন্দরে আটকে আছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাণিজ্যঘাটতি বেড়ে ১৬.৯১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, কারণ আমদানি বেড়েছে কিন্তু রপ্তানি কমেছে। চলতি হিসাবে ঘাটতি কমে ১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে এবং আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত বেড়েছে। রেমিট্যান্স ও ট্রেড ক্রেডিট এতে ভূমিকা রেখেছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্র চীনকে টপকে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। পাল্টা শুল্কের কারণে চীনের রপ্তানি ৫৭.৬৫ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশের সাড়ে ৮ শতাংশ কমেছে। ভিয়েতনাম শীর্ষে রয়েছে।

গত মার্চে দেশের পণ্য রপ্তানি প্রায় ১৮ শতাংশ কমে ৩৪৮ কোটি ডলার হয়েছে। শীর্ষ পাঁচটি খাত সহ অধিকাংশ খাতেই হ্রাস পড়েছে। গত আট মাস ধরে রপ্তানি নেতিবাচক ধারায় রয়েছে।

মার্চ মাসে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি ১৯.৭৮ শতাংশ কমে ৩৩৯.৬০ কোটি ডলার হয়েছে। ঈদুল ফিতরের ছুটি, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক, চীনের প্রতিযোগিতা ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ এর জন্য দায়ী। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রপ্তানি ৩.১৫ শতাংশ কমেছে।

ইইউ চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিভিন্ন দেশ থেকে ৭০৩ কোটি ইউরোর পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ১৫ শতাংশ কম।