আনন্দের যাত্রায় হাম সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা
হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এই ঈদ যাতায়াত সংক্রমণ বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা। সেদিকে সরকারের মনোযোগ না দেখে হতাশও তাঁরা।
হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এই ঈদ যাতায়াত সংক্রমণ বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা। সেদিকে সরকারের মনোযোগ না দেখে হতাশও তাঁরা।
কর্মসূচির আওতায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
শুধু রাজধানীর মহাখালীতে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ল্যাবরেটরিতে হামের পরীক্ষা হয়। দেশে আর কোথাও এমন পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই।
দেশে আজ রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন ও হামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মারা যাওয়া শিশুটির বয়স সাত মাস। বাড়ি লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকায়।
আইইউবিতে ‘আউটব্রেক অ্যালার্ট: প্রটেক্টিং আওয়ার কমিউনিটি ফ্রম মিসেলস’ সেমিনারে হামের প্রতিরোধ, লক্ষণ ও ঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেন। বক্তারা টিকাদানের গুরুত্ব ও সঠিক চিকিৎসার পরামর্শ দেন। চলমান প্রাদুর্ভাবে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালে মঙ্গলবার হামের লক্ষণ নিয়ে আরও ৬ জন ভর্তি হয়েছেন, যাতে চিকিৎসাধীন রোগী সংখ্যা ২৫-এ পৌঁছেছে। শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত। হাসপাতালে দুটি আইসোলেশন কর্নার গঠন করা হয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
বান্দরবান সদর হাসপাতালে হাম ও রুবেলায় আক্রান্ত রোগীদের খোঁজ নিয়েছেন জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ হুমায়ুন রশীদ। তিনি রোগীদের উন্নত চিকিৎসায় সেনাবাহিনীর সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
সারা দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় আজ রোববার হাম–রুবেলার জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নবাবগঞ্জ থেকে এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং বিগত সরকারের অবহেলার কথা উল্লেখ করেন।
হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে এবং সাধারণ মানুষের আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাসের শিশুদের টিকা দেওয়া হবে।
চট্টগ্রামে হামের সন্দেহে রোগী বেড়েছে ৮০ জনে, দুই শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। চার উপজেলায় এখনো হাম কর্নার চালু হয়নি যদিও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন জানান, খোঁজ নিয়ে জরুরি নির্দেশ দেওয়া হবে।
ঝড়বৃষ্টি, হামের আতঙ্ক, ট্রেনের টিকিটসংকট ও যানজটের কারণে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শ্রীমঙ্গলে পর্যটক আগমন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন হোটেল-রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা।