দুপুরের রোদ রক্তজবায় ঝরে
গভীর আদিবাসী ছায়াবন সবুজ ছিঁড়ে উপড়ে ফেলেছে অনেক অভিবাসী মুঠি। পাহাড়ের কঙ্কাল পড়ে আছে বুকে লক্ষ দাঁতের দাগ–আঁচড় গাছে গাছে কুঠার ও কষ অদূরেই নয়া টাউনশিপ— মাটিতে ভরাট পথ রিসোর্ট বাজার নতুন কালভার্টে ঝিরি বুজে গেছে।
গভীর আদিবাসী ছায়াবন সবুজ ছিঁড়ে উপড়ে ফেলেছে অনেক অভিবাসী মুঠি। পাহাড়ের কঙ্কাল পড়ে আছে বুকে লক্ষ দাঁতের দাগ–আঁচড় গাছে গাছে কুঠার ও কষ অদূরেই নয়া টাউনশিপ— মাটিতে ভরাট পথ রিসোর্ট বাজার নতুন কালভার্টে ঝিরি বুজে গেছে।
কিওকো নিওয়া জাপানের প্রখ্যাত বাংলা সাহিত্য-গবেষক ও অনুবাদক। তিনি টোকিও ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজের সাবেক অধ্যাপক। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি স্নাতকোত্তর (১৯৮৩) এবং ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি (১৯৮৮) অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় আধুনিক ও সমকালীন বাংলা সাহিত্য, বাংলা কবিতা ও তুলনামূলক সাহিত্য। দীর্ঘ শিক্ষকজীবনে তিনি টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
কেন আমি মরতে যাব, কেন সেধে মারা পড়ব সকালে সন্ধ্যায়। আমার ছোট্ট একটা প্রাণ, টুপ করে ঝরে পড়তে পারি। সে–ও এক মায়ের কোলেই ফেরা হবে। মায়ের জঠরে ছিলাম আমি, মৃত্যুরও জঠর আছে। মৃত্যুও মা আমার। যাকে কোনো দিন দেখিনি। জানি দেখব। প্রতিটা মুহূর্তে সে এগিয়ে আসছে আমার দিকে। দেখা তো হবেই।
দেখাবে বিধৌত আর শোনাবে মরচে পড়া বিরহের জিয়নকাঠি প্রবাহিত ইচ্ছামাফিক ফিরে হই মরণকাঠি ঘিরে হই বিস্মরণের ভূমিষ্ঠকালীন ক্রিয়ার গোলাকার চিহ্ন এবং সবিশেষ বক্ররেখায় চেপে বসি নিয়মসিদ্ধ সমূহ বর্তুলাকার সে রেখায় বিদ্ধকারী
পীড়িত দুরন্ত পাখি সংশয়ে সাহস নিষ্প্রভ শূন্যতা! নিজস্ব স্রোতস্বতী একাকী লুকোচুরি— অদ্ভুত ভুতুড়ে খাঁচা ভেঙে দুর্বার জলযান।
আমরা ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। ওকে চিনতে পারি না। কী করব বুঝতে পারি না। রাগে সে কাঁপছে। বুঝতে পারি, শুধু পোশাক-আশাকেই ওর পরিবর্তন হয়নি, মানুষটাই পাল্টে গেছে। নিজেকে এই সমাজের হাজার বছরের রীতি থেকে আলাদা করে ফেলেছে। বিপ্লব সাহস করে বলল, ‘ঠিক আছে, দোস্ত, তুমি তোমার মতো থাকো।’ শফিক বলল, ‘অবশ্যই।’ বলেই সে হাঁটা শুরু করল।
এভাবে ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গড়ে ওঠে পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক চৈতন্যের বনিয়াদে। দেশ-কালের বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সে আয় করে নেয় তেজোদ্দীপ্ত উচ্চারণভঙ্গি। তৎসম শব্দ, স্বর ও ব্যঞ্জনের সুরেলা বিন্যাস আর সামষ্টিক জনতার কোরাসসম উচ্চারণে নিষ্পন্ন হয় তার নান্দনিক বিশিষ্টতা। উত্থিত জনতার লিপ্ত আবেশে গড়া যুগের সবল অভিব্যক্তি থেকে সে শুষে নেয় মুক্তির প্রকল্প। যুগসত্য থেকে ছেনে নেওয়া বলেই মুক্তির এ বার্তা এত তীব্র, কার্যকর আর সামঞ্জস্যপূর্ণ। শতবর্ষে এসে নিশ্চিন্তে বলা যায়, বাংলাভাষীরা আরও বহুকাল ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ নিত্য বর্তমান শিল্পকর্ম হিসেবে ব্যবহার ও ভোগ করতে থাকবে।
নজরুলের সাম্যচিন্তা সব যুগের জন্যই প্রাসঙ্গিক। কারণ, এ চিন্তা মৌলিক সর্বজনীন কিছু মানবিক চিন্তার ওপরে স্থিত। আমি মনে করি, নজরুলের সাম্যচিন্তার ওপরে আরও আলাপ-আলোচনা, আরও গবেষণা হওয়া দরকার, যাতে আগামী পৃথিবীর পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটেও নজরুল প্রাসঙ্গিক থাকেন।
জর্জ অরওয়েল (২৫ জুন ১৯০৩—২১ জানুয়ারি ১৯৫০) তাঁর দুটি কাজের জন্য বিখ্যাত। একটি রূপকাশ্রয়ী উপন্যাস অ্যানিমেল ফার্ম। এটি স্তালিনবাদের সিস্টেমের বিরুদ্ধে লেখা। অন্যটি ডিস্টোপিয়ান উপন্যাস নাইনটিন এইটি ফোর। এ দুটি উপন্যাসেই লেখক ক্ষমতাবানদের প্রশ্ন করেছেন ও দেখিয়েছেন ‘ক্ষমতা’ কীভাবে নিপীড়ক সংস্থার হয়ে কাজ করে। ক্ষমতাবান (বিগ ব্রাদার বা বড় ভাই) কীভাবে নজরদারিতে রাখে সাধারণ মানুষকে শাসন করার জন্য।
নিকষ কালো মেঘে ঢাকা আকাশ, সঙ্গে দুদ্দাড় বৃষ্টি। কার্নিশে চুপচুপে ভেজা বাদামি রঙের একটা চড়ুই ডানা ঝাপ্টাচ্ছে। শোভনের সঙ্গে প্রথম যেদিন আমার কথা হয়, কিছুটা সখ্য গড়ে ওঠে, সেদিনও ছিল আজকের মতো অবিশ্রান্ত বৃষ্টির দিন।
বিশ শতকের দর্শনের ইতিহাসে ফরাসি দার্শনিক জিল দল্যুজ (১৮ জানুয়ারি ১৯২৫—৪ নভেম্বর ১৯৯৫) এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী নাম। তিনি এমন এক দার্শনিক, যিনি শুধু নতুন কিছু ধারণা প্রস্তাব করেননি, বরং চিন্তা করার প্রচলিত পদ্ধতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। পাশ্চাত্য দর্শনের দীর্ঘ ইতিহাসে পরিচয়, সত্য, সত্তা, যুক্তি, চেতনা কিংবা মানুষের প্রকৃতি নিয়ে যে ধরনের আলোচনা প্রচলিত ছিল, দল্যুজ সেই আলোচনার কেন্দ্রে একটি মৌলিক পরিবর্তন আনেন। তাঁর কাছে দর্শনের কাজ কোনো চূড়ান্ত সত্য আবিষ্কার করা নয়, বরং নতুন ধারণা সৃষ্টি করা।
চাইছিলাম রিমঝিমকে; চাইছিলাম সীমাকে সীমা আটকে আছে কাঁটাতারের বেড়াতে রিমঝিম সে–ও ভুলতে পারছে না স্মৃতির মানুষটাকে