
ইরান যুদ্ধে কে জিতল, কে হারল
ইরানের বিরুদ্ধেও ‘টাকো ট্রাম্প’ একই রকম হুমকি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে এমনভাবে গুঁড়িয়ে দেবেন যে ইরানি সভ্যতা বলে কিছু থাকবে না।

ইরানের বিরুদ্ধেও ‘টাকো ট্রাম্প’ একই রকম হুমকি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে এমনভাবে গুঁড়িয়ে দেবেন যে ইরানি সভ্যতা বলে কিছু থাকবে না।

মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে। ইসলামাবাদের যোগাযোগ ও চাপের ফলে আলোচনা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে। এতে পাকিস্তান নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও ভাবমূর্তির লাভ করেছে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্থির, দেশে আমদানি খরচ বেড়ে লোকসান হচ্ছে হাজার কোটি টাকা। যুদ্ধবিরতিতে দাম কমলেও অনিশ্চয়তায় আবার বেড়েছে। সুফল পেতে সময় লাগবে বলছেন খাতের সংশ্লিষ্টরা।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের দুর্নীতির বিচার আগামী রোববার পুনরায় শুরু হবে। বিচারে ঘুষ গ্রহণ, বিশ্বাসভঙ্গ ও জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইসরায়েল।

ইরান হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণা দিয়েছে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে বিজয় বললেও ইরান ‘মহান বিজয়’ দাবি করছে। দুই পক্ষের প্রস্তাবে বড় ফারাক থাকায় আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

বিশ্ব গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, এমন অবস্থা চলতে থাকলে অল্প কিছুদিনের মধ্যে পৃথিবীর অনেক দেশ তীব্র তেলসংকট পড়বে। এমনকি তেলশূন্যও হয়ে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর্দার আড়ালে ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের ওপর চাপ দিয়েছিল। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে জানা গেছে, জ্বালানি দাম বাড়া এবং ইরানের প্রতিরোধ ট্রাম্পকে উদ্বিগ্ন করেছিল। পাকিস্তান মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চলছে যদিও বাধা রয়ে গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ‘চূড়ান্ত’ শান্তিচুক্তির পথে ‘অনেক দূর’ এগিয়েছে।

সানেমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তেলের দাম ৪০% এবং এলএনজি ৫০% বাড়লে জিডিপি ১.২% কমতে পারে, রপ্তানি ২% এবং আমদানি ১.৫% হ্রাস পাবে। মূল্যস্ফীতি ৪% বাড়বে এবং প্রকৃত মজুরি ১% কমবে। জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সানেম নবায়নযোগ্য শক্তি ও মজুত তৈরির সুপারিশ করেছে।

যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার বেড়েছে। গত বুধবার ৯২ ডলারে নেমে আসার পর বৃহস্পতিবার ব্যারেল প্রতি ৯৭ ডলারে উঠেছে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম। অয়েলপ্রাইস ডটকমের তথ্য এতে নিশ্চিত করেছে।

এক দিন আগে ট্রাম্প ইরানকে বোমা মেরে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছিলেন