দেশের মাদকের সমস্যা একধরনের ‘প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আরোপিত মাদকের যুদ্ধ’ কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন। একই সঙ্গে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে দ্রুত যৌথ অভিযান শুরুর দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে আবদুল্লাহ আল আমিন এ দাবি জানান। প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আমাদের এ মাদকের সমস্যাটা একপ্রকারে সো-কলড (কথিত) প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আরোপিত মাদকের যুদ্ধ কি না? যে রকম আমরা আফিমের যুদ্ধের সময় পড়েছি, সে রকম একটা মাদকের যুদ্ধ কি না, আমাদের তরুণ প্রজন্মকে মাদকে বুঁদ করে এ দেশের মার্কেট দখল করা।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত সংসদ অধিবেশনে ঈদের পরে মাদকের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনার কথা বলেছিলেন উল্লেখ করে আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, ‘সেটা কোন ঈদের পরে আমরা জানতে পারি? মাদকের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান না করতে পারলে এবং আমাদের তরুণ প্রজন্মকে কাজে না লাগাতে পারলে আমাদের অনেক পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না।’
কুষ্টিয়া-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ কুষ্টিয়া, নাটোর ও রাজশাহীর চার উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী বাহিনী দমনের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সময় কিন্তু এই সন্ত্রাসটা ছিল না। এখন মানুষ বলছে, বিএনপি আসার পর সন্ত্রাস শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, সে বিএনপির যে নেতাকেই প্রশ্রয় দিক, এই বালুমহাল বন্ধ করতে হবে।’
এই সংসদ সদস্য বলেন, দৌলতপুর, লালপুর, বাঘা ও চারঘাটের বিশাল চর এলাকায় খাসজমি ও বালুমহালকে কেন্দ্র করে কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এসব সন্ত্রাস কঠোর হাতে দমন করার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের নির্বাচনী এলাকায় ৪২ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে উল্লেখ করে রেজা আহাম্মেদ বলেন, ‘বর্ডারে এত ধরনের মাদক আছে, যা অকল্পনীয়। এই মাদক নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। পুলিশের তিনটি গাড়ির দুটি নষ্ট। পুলিশকে অন্তত পাঁচটি গাড়ি দেওয়া হোক।’
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে এনসিপির সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম বলেন, ‘মানুষ রক্ত দিয়ে স্বৈরাচারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল; কিন্তু দুই বছর পরেও সেই স্বৈরাচারের বিষদাঁত ভাঙতে দেখিনি। এখনো তাদের সন্ত্রাস চারদিকে জারি রয়েছে, তারা জোরগলায় হুমকি দেয় এবং এত মানুষ হত্যার জন্য বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নয়।’
নুসরাত তাবাসসুম আরও বলেন, ‘খুনি হাসিনা তার সিংহাসন টিকিয়ে রেখেছিল কালচারাল ফ্যাসিস্টদের দিয়ে। তাদের মোকাবিলার জন্য নিজস্ব দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষা করতে হবে।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বলেন, পাঠ্যপুস্তক থেকে হাজী শরীয়তউল্লাহ ও তিতুমীরের ইতিহাস হারিয়ে যাচ্ছে। যাঁদের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে দেশপ্রেম এসেছে, তাঁদের ইতিহাস আগামীতে পাঠ্যপুস্তকে ফিরিয়ে আনতে হবে।
প্রবাসীদের হয়রানির কথা তুলে ধরে হানজালা আরও বলেন, বিমানবন্দরে হেনস্তা ও পাসপোর্ট জটিলতা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ–সংকট নিরসনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এলাকায় কারেন্ট না থাকলে মানুষ আমাকে ফোন দিয়ে বলে, এমপি সাহেব, কারেন্ট নাই কেন? বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান না করলে মানসম্মান নিয়ে এলাকায় থাকা যাবে না।’
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, এই বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রাগুলো ধরা হয়েছে, তার অনেকগুলোই স্বপ্নবিলাস। তিনি বলেন, বাজেটঘাটতি পূরণের দুটি পথের একটি হলো টাকা ছাপানো; আর সেটি করা হলে মূল্যস্ফীতি অবধারিত।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বলা হচ্ছে, আমরা গণভোটের রায় মানতে বাধ্য নই; কিন্তু যারা মানবিক, ইনসাফভিত্তিক ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য সেই রায়ের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তাঁরা যদি আন্দোলনে নামে, তাহলে দেশের পরিস্থিতি কী হবে? তখন কি বাজেট বাস্তবায়নের মতো পরিবেশ থাকবে? থাকবে না।’
মাহবুবুর রহমান অবিলম্বে গণভোটের রায় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।






