জরুরিভাবে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ চায় সরকার
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের দাম বেড়ে গেছে। ঋণের খোঁজ করতে ইআরডিকে চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয়ের।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের দাম বেড়ে গেছে। ঋণের খোঁজ করতে ইআরডিকে চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয়ের।
হরমুজ প্রণালীতে চলমান অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর অচলাবস্থা সরাসরি জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলছে। এর পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধ কৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ড্রোন প্রযুক্তি এবং অ্যালগরিদম-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধু সামরিক সংঘাত নয়, বরং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আধিপত্যের লড়াই। হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। ফলে এই সংকটের দ্রুত সমাধান এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ২৫ হাজার টন ফার্নেস তেল নিয়ে এসেছে ‘এমটি ইস্টার্ন কুইন্স’ জাহাজ। ইন্দোনেশিয়ার ‘পিটি বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন’ তেল সরবরাহ করেছে। বিপিসি জানিয়েছে, দেশে ফার্নেস তেলের কোনো সংকট নেই।
ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির জেরে অনেক দেশ তেলের মূল্য বৃদ্ধি করে।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে নোয়াখালী জেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের তীব্র সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কারখানার মালিক থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীরাও।
ম্যাককোয়ারি গ্রুপের গবেষণায় বলা হয়েছে, যুদ্ধ জুন পর্যন্ত চললে তেলের দাম সাময়িকভাবে ২০০ ডলার ছাড়াতে পারে, সম্ভাবনা ২০ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও হরমুজ বন্ধের কারণে ডব্লিউটিআই ক্রুড ১০০ ডলার পেরিয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, সরবরাহ সংকট গভীর হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধাক্কা খাবে।
চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের সংকট চলছে। ফলে বেশি দামে বিক্রি করে অতিরিক্ত লাভের আশায় প্রায় ছয় হাজার লিটার ডিজেল মজুত করেছেন এক ব্যবসায়ী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে গিয়ে ওই ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে এসব জ্বালানি জব্দ করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও নগর পুলিশের একটি দল।
ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি সংকট কমাতে জেলা প্রশাসন ‘নো ফুয়েল কার্ড, নো পেট্রল-অকটেন’ নীতি চালু করেছে। ৫ এপ্রিল থেকে কার্ড ছাড়া মোটরসাইকেল চালকরা তেল পাবেন না। কার্ড পাওয়ার জন্য লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন চালকরা।
ইরান যুদ্ধের পর অকটেন সংকট নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশে চাহিদার অর্ধেক অকটেন উৎপাদিত হয়, বাকি আমদানি। এপ্রিলে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও প্যানিক বায়িংয়ে লাইন বাড়ছে।
চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১ এপ্রিল থেকে মোটরসাইকেলের জন্য ফুয়েল কার্ড বাধ্যতামূলক। কার্ড ছাড়া পেট্রল-অকটেন পাওয়া যাবে না। জেলা প্রশাসনের সভায় নানা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নওরীন ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. মিজানুর রহমানকে জ্বালানি তেলের ক্রয়-বিক্রয় ও মজুতের হিসাব দেখাতে না পারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছেন। অভিযোগ, তিনি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছিলেন। উপজেলা প্রশাসন নজরদারি অব্যাহত রাখবে।