
সি-ট্রাম্প বৈঠকে উঠে এল থুসিডাইডিসের ফাঁদ
বেইজিংয়ে সি চিন পিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকে প্রাচীন গ্রিসের পেলোপনেশিয়ান যুদ্ধ ও থুসিডাইডিসের ফাঁদ নিয়ে আলোচনা হয়।

বেইজিংয়ে সি চিন পিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকে প্রাচীন গ্রিসের পেলোপনেশিয়ান যুদ্ধ ও থুসিডাইডিসের ফাঁদ নিয়ে আলোচনা হয়।

বেইজিং বৈঠকে সি চিন পিং ট্রাম্পকে ‘থুসিডাইডিস ফাঁদ’ নিয়ে সতর্ক করেন, যা উদীয়মান ও প্রতিষ্ঠিত শক্তির মধ্যে যুদ্ধের ঝুঁকি নির্দেশ করে। তাইওয়ান ইস্যুতে কঠোর অবস্থান জানিয়ে তিনি সংঘাতের আশঙ্কা তুলে ধরেন। ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির কথা বলেন।

গত কয়েক মাসে বিশ্বরাজনীতির ছক বদলে গেছে, এর মধ্যে ট্রাম্প-সি চিন পিংয়ের বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে। হরমুজ প্রণালির সংকটে আমেরিকা চীনের সাহায্য চাইছে, কিন্তু চীন শক্ত অবস্থান নিয়ে প্রবেশ করছে। তাইওয়ান ইস্যুসহ বড় সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্রাম্পের চীন সফর শেষ হওয়ার পরপরই আগামী সপ্তাহে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বেইজিং যেতে পারেন। এটি বেইজিং-মস্কোর নিয়মিত যোগাযোগের অংশ। চীন এর মাধ্যমে একই মাসে দুই শীর্ষ পরাশক্তির নেতার আতিথেয়তা দেবে।

বাণিজ্য, তাইওয়ান ও ইরান ইস্যুতে আলোচনার পর সি চিন পিং ট্রাম্পকে বেইজিংয়ের গোপন ‘ঝংনানহাই’ চত্বরে নিয়ে হাজার বছরের পুরানো গাছ দেখান। গোপন মাইক্রোফোনে রেকর্ড হওয়া তাঁদের অনানুষ্ঠানিক কথোপকথন বিস্ময়কর। পুতিনের মতো খুব কম নেতাই এখানে আসেন।

সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প ইরান নিয়ে ধৈর্য হারানোর কথা বলেছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে দুই নেতা একমত। এদিকে প্রণালিতে জাহাজ আক্রমণের ঘটনায় উত্তেজনা বাড়ছে।

সি চিন পিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকে ইরান, তাইওয়ান ও বাণিজ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, দুই দেশের ‘অনেক ভিন্ন ভিন্ন সমস্যার’ সমাধান করা হয়েছে। তবে সংবেদনশীল ইস্যুগুলোতে সুনির্দিষ্ট চুক্তি হয়নি।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ইরান যুদ্ধ বন্ধে সহায়তা এবং হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, চীন ইরানকে সামরিক সরঞ্জাম দেবে না। বেইজিংয়ে বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যুতে সতর্কতার কথাও বলেছেন সি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে সাক্ষাৎকারে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং-এর প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, হলিউড সি-এর চরিত্রের জন্য তার মতো কাউকে খুঁজে পাবে না। চীন হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে চায় এবং বোয়িং জাহাজ, তেল কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি নিয়ে বারবার ধাক্কা খাচ্ছে। কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও হুমকি সত্ত্বেও ইরান আত্মসমর্পণ করছে না, বরং প্রতিরোধ জোরদার করছে। এই কৌশল যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দীর্ঘ বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র যখন যুদ্ধে ব্যস্ত, সি তখন শান্তির ডাক দিচ্ছেন। উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইউরোপের বিদেশি গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন, যাঁরা এই সংকট অবসানে তাঁর সহযোগিতা চাচ্ছেন।

ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির পক্ষে সাফাই দিয়েছেন বারাক ওবামা। তিনি বলেছেন, চুক্তির ফলে কোনো যুদ্ধ ছাড়াই ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ৯৭ শতাংশ সরানো সম্ভব হয়েছিল। সিবিএস-এর সাক্ষাৎকারে এই মতামত জানিয়েছেন তিনি।