ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ‘শান্তি পরিকল্পনা’ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গাজার শাসকগোষ্ঠী ও সশস্ত্র প্রতিরোধী সংগঠন হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে প্রস্তাবিত শর্তে রাজি নন বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, হামাস পুরো নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না।

তবে গত সপ্তাহেই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তাঁর শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি ‘বড় মাইলফলক’ অর্জিত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলও ‘খুবই সন্তুষ্ট’। গত অক্টোবরে নীতিগতভাবে সম্মত ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী হামাস অস্ত্র সমর্পণ করবে এবং ধাপে ধাপে গাজা থেকে সেনা সরাবে ইসরায়েল।

পরিকল্পনা ঘোষণার পর থেকেই দুই পক্ষের অবস্থান নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, হামাস অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করবে না। পাল্টা হিসেবে হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার ও হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র ছাড়বে না তারা।

নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে ইসরায়েলের এমন অবস্থান জানানোর পর গতকাল বুধবার রাত পর্যন্ত এ বিষয়ে হামাসের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও নতুন করে কোনো মন্তব্য করেননি।

প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার প্রথমবার প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, কথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর শর্তে ইসরায়েল রাজি হয়নি। হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজায় বর্তমান অবস্থান থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। তবে চুক্তির শর্ত চূড়ান্ত করতে আলোচনা চলবে।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন তদারকির জন্য বোর্ড অব পিস গঠন করা হয়েছে। এর আগে সোমবার ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন বোর্ড অব পিসের প্রধান দূত নিকোলাই স্লাদেনভ। বৈঠকের পরদিন ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা নিয়ে এ কথা বলেন নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বা তাঁর দল মনে করছে, তারা হামাসকে নিরস্ত্র এবং গাজার বেসামরিকীকরণ করতে পারবে। আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। একটি খসড়া পাঠিয়েছিল। আমরা তাতে সম্মতি দিইনি। সেটি আমাদের খসড়া ছিল না। আমরা মন্তব্য জানিয়ে তা ফেরত পাঠিয়েছি।’

প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর গাজায় ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত একটি সীমারেখায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। এতে গাজার ৪৭ শতাংশ এলাকা ফিলিস্তিনিদের ও ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা ছিল। কিন্তু ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের বদলে ইসরায়েল উল্টো গাজায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়িয়েছে। বর্তমানে তারা গাজার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে।

ইসরায়েল যে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে চায় না—নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার সদস্যরাও সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ রোববার বলেছেন, হামাসকে নিরস্ত্র ও তাদের সুড়ঙ্গগুলো ধ্বংস না করা পর্যন্ত গাজায় অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনারা তাঁদের বর্তমান অবস্থান থেকে সরে যাবেন না।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, পরিকল্পনাটি ট্রাম্পের হওয়ায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু। তিনিও গাজা থেকে সেনা সরাতে চান না। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত এ চুক্তি প্রত্যাখ্যানে কট্টর ডানপন্থী জোটসঙ্গীদের চাপে আছেন নেতানিয়াহু। কারণ, অক্টোবরে ইসরায়েলে যে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে ডানপন্থীরা তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।