‘পছন্দমতো’ বিচারক নিয়োগ দিতে দুই অধ্যাদেশ বাতিল
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বলা যায় না বলে মন্তব্য করেন সারা হোসেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বলা যায় না বলে মন্তব্য করেন সারা হোসেন।
অবসর গ্রহণের পর মাসদার হোসেন আইন পেশায় ফেরেন। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য ছিলেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরা পদত্যাগ করেছেন এবং খোলাচিঠি লিখেছেন। কমিশনের সচিব বলেছেন, এতে কমিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়েছে। বিদায়ী সদস্যরা ধোঁয়াশায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণভোটকে ঘটনাক্রমে সিদ্ধ ও বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সকল কর্মকাণ্ডকে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বৈধতা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে গণভোটের জন্য সাংবিধানিক বা আলাদা আইনি কাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৬টি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি। এসব নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিরুদ্ধে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ৯১টি বিলের মাধ্যমে অধিকাংশ অধ্যাদেশ পাস হয়েছে।
শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি ও দেশবিরোধী চুক্তি বাতিলের দাবি জানায়। বন্দর ইজারা বন্ধের ঘোষণা দিয়ে তারা প্রতিহতের হুঁশিয়ারি দেয়। নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তিগুলোকে দেশবিরোধী বলে সমালোচনা করেন।
জাতীয় সংসদ অন্তর্বর্তী সরকারের সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ ও স্বতন্ত্র সচিবালয়ের তিন অধ্যাদেশ বাতিল করেছে। বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে বিল দুটি পাস হয়েছে। ফলে বিচার বিভাগ আগের অবস্থায় ফিরছে, তবে ২৫ জন নতুন বিচারকের নিয়োগ বৈধ থাকবে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের বিধান এবং স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাতিল করেছে জাতীয় সংসদ।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ দিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যাবে না, সংসদে আইন প্রণয়নের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জরুরি। অধ্যাদেশের অভাবে সরকারের অঙ্গীকার প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এটি শাহদীন মালিকের মতামত।
জাতীয় সংসদে বিরোধী এনসিপি সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের উত্থাপিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬ পাস হয়েছে। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে ২০০৯ সালের আইন পুনর্বহাল হয়। হাসনাত রাজনৈতিক দমনের অস্ত্র হিসেবে এর ব্যবহারের আশঙ্কা জানান।
জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল পাস হয়েছে, যাতে আওয়ামী লীগসহ সন্ত্রাসী সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান অটুট রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ২০২৫ সালের ১১ মে জারি অধ্যাদেশটি এভাবে আইন হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা সময়ের অভাব দেখিয়ে আপত্তি জানালেও বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তিকে অন্যায় ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী বলে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা সাইফুল হক এটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও বিশেষজ্ঞরা চুক্তিটি অসম ও সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী বলে সমালোচনা করেন। বিএনপি সরকারকে এ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।