ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের নিজের ঘরেই যেভাবে ভাঙন ধরিয়েছে
জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্প যদি স্থল সেনা মোতায়েন করেন, তাহলে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব আরও বাড়বে।
জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্প যদি স্থল সেনা মোতায়েন করেন, তাহলে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব আরও বাড়বে।
এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন স্থল সেনা ইরানের অভ্যন্তরে ঢোকেনি।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারেন না। তিনি শক্তি প্রয়োগ, উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে এমন বাস্তবতাকে চূর্ণবিচূর্ণ করার চেষ্টা করেন। নিজের টিকে থাকার লড়াইয়ে যুদ্ধই তাঁর একমাত্র কৌশলগত হাতিয়ার।
মার্কিন নীতিনির্ধারকদের ধারণা, নতুন করে ভয়াবহ হামলার পর ইরান নমনীয় হতে বাধ্য হবে। পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার টেবিলে আসতে আগ্রহী হবে।
গত শনিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে চালানো হামলার বিরুদ্ধে অবস্থা নিয়েছেন বেশির ভাগ মার্কিন নাগরিক। এমনটাই উঠে এসেছে পত্রপত্রিকার জনমত জরিপগুলোয়।
ইরানে হামলা চালিয়ে ট্রাম্প শুধু আফগানিস্তান, ইরাক, ইয়েমেন, লিবিয়া ও সিরিয়ায় তাঁর পূর্বসূরিদের ভুলের পুনরাবৃত্তিই করেননি; বরং নিজের পক্ষ থেকেও নতুন কিছু ভুল যোগ করেছেন।
ইরানজুড়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভের প্রায় দুই সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর পছন্দের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথে একটি বার্তা দেন। তিনি লেখেন, ‘ইরান এমন এক স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে, যা (ইরান) আগে কখনো দেখেনি।
ইরানবিরোধী ক্রমবর্ধমান বক্তব্য এবং ইরানে হামলার নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতি কি কেবল ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে একটি কূটনৈতিক বৈঠকে অংশগ্রহণ? ট্রাম্পের এই উপস্থিতি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত হিসাব-নিকাশে একটি নতুন সমন্বয় বা পুনর্গঠনের ইঙ্গিত বহন করে।
যুদ্ধ অবসানে ট্রাম্পের নতুন চাল
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ বন্ধে আরও আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরানের ১০ দফার প্রস্তাব ব্যবহারে সম্মতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের এই প্রস্তাবে অনাক্রমণের নিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন দাবি রয়েছে।
ইরান-ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে লেখক বেহরুজ ঘামারি–তাবরিজি দেখছেন, বাইরের আক্রমণে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র পতনযোগ্য নয়। ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বোমাহামলা যুদ্ধও একই ভুল পুনরাবৃত্তি করছে। ইরানিরা বুঝেছে, রাষ্ট্রের পাপের জন্য জাতীয় শাস্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
উপসাগরীয় দেশ ওমানে এক দিনের এ আলোচনায় ‘ইতিবাচক পরিবেশের’ প্রশংসা করেছে তেহরান।