
সংখ্যার বাজেট নয়, সংকট উত্তরণের রূপরেখা চাই
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনীতি আর সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকা যাবে না। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনীতি আর সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকা যাবে না। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা খাত নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন, শিক্ষা বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ এবং কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও শিক্ষকনেতারা।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেওয়া এক চিঠিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব লেনদেন সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

আলোচ্যসূচি এখনো চূড়ান্ত না হলেও আসন্ন সফরে অভিবাসন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা খাতে সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে গত বসন্ত সেমিস্টারে আন্তর্জাতিক স্নাতক শিক্ষার্থী ভর্তি গড়ে ২০ শতাংশ কমেছে। কঠোর ভিসা ও অভিবাসন নীতি এর প্রধান কারণ বলে জানিয়েছে ৮৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। এতে উচ্চশিক্ষা খাতে আর্থিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেছেন, পরিবর্তনশীল শিক্ষাব্যবস্থায় নোট-গাইডের প্রয়োজনীয়তা হারাচ্ছে এবং সহায়ক বইয়ে সুযোগ রয়েছে। বাপুসের ৪৪তম সাধারণ সভায় প্রকাশক-বিক্রেতারা শিল্পের মর্যাদা ও সরকারি সহায়তার দাবি তুলেছেন। অন্যান্য প্রতিমন্ত্রীরা বইমেলা ও ব্যবসায়ীদের উন্নয়নে পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রাথমিক শিক্ষাকে ধাপে ধাপে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

দেশে ২ হাজার ৮৩৯টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই, জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জাতীয় সংসদে। এসব গ্রামে প্রাথমিক স্তরের ২ লাখ ৭৬ হাজার ৫১৬ শিশু রয়েছে। এছাড়া শিক্ষা খাতে শূন্য পদ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন মন্ত্রী।

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫% বরাদ্দের লক্ষ্যে ৪৩টি ক্ষেত্রে স্বল্প-দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা চলছে। সব উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল-কলেজ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুলড্রেস ও মিড-ডে মিলসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে। নারী শিক্ষার জন্য সব উপজেলায় মহিলা কলেজ সরকারীকরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

আইইউবিএটি এবং ব্র্যাকনেট লিমিটেড শিল্প-শিক্ষা খাতে সহযোগিতা জোরদার করতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন আইইউবিএটির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. মমতাজুর রহমান এবং ব্র্যাকনেটের হেড অব অপারেশনস আরিফ হোসেন। অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

জ্বালানি সাশ্রয় জরুরি হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে অনলাইন শিক্ষায় ফিরে যাওয়া উচিত নয়। করোনাকালের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, অনলাইন পদ্ধতি শ্রেণিকক্ষের মতো কার্যকর নয় এবং বৈষম্য বাড়ায়। শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে অন্যান্য ক্ষেত্রে সাশ্রয় করা দরকার।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার যত উৎকর্ষের দিকে এগোচ্ছে, তখন দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের একটি মৌলিক দুর্বলতা দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।