দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলে মনে করেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস আয়োজিত ১৩ দফা শিক্ষা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, "কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা দেশের বড় সম্পদ। তাদের মাধ্যমে গোটা জাতি উপকৃত হতে পারে, এমন ব্যবস্থা করতে হবে।"
দেশের শিক্ষিত শ্রেণির মাঝে নৈতিকতার যে ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা যথাযথ ধর্মীয় শিক্ষার অভাবের ফল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, পুরো শিক্ষানীতি ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি সর্বস্তরে ধর্মীয় শিক্ষা সংযোজন এবং কওমি সনদের বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
শিক্ষা খাতের ওপর অধিক গুরুত্বারোপের আহ্বান জানিয়ে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব বলেন, "বরাদ্দ বাড়িয়ে সব শ্রেণির মানুষের জন্য শিক্ষাকে সহজলভ্য করা ছাড়া জাতিগত উন্নতি সম্ভব নয়। ইসলামী ছাত্র মজলিস উত্থাপিত ১৩ দফার প্রত্যেকটি দাবি পূরণ করা এখন সময়ের তাগিদ। সুতরাং এগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।"
একই সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন করে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের আস্ফালন দেখে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি এবং এসব কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল জাকারিয়া হোসাইন জাকিরের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. আব্দুল লতিফ মাসুম, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমির ড. মাওলানা ঈসা শাহেদী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের অধ্যাপক ড. মুফতি গোলাম রব্বানী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাকাত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মাওলানা ওয়ালিউর রহমান খান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ কে এম বদরুদ্দোজা, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. এ কে এম এনামুল হক, ইসলামিক স্কলার শায়খ মাওলানা আবু মোহাম্মদ রাহমানী, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রুহুল আমিন সাদী এবং দারুল উলুম ঢাকার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া।