পাল্টাপাল্টি হামলা চললেও আলোচনার পথ খোলা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
টানা নবম দিনের মতো ইরানে মার্কিন হামলা এবং পাল্টা ইরানি আক্রমণের মধ্যেই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছে দুই দেশ।
টানা নবম দিনের মতো ইরানে মার্কিন হামলা এবং পাল্টা ইরানি আক্রমণের মধ্যেই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছে দুই দেশ।
কিন্তু এমন এক মুহূর্তে গতকাল ভোরেও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একাধিক ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
বিস্ময়ের কথা, ইরানের এ সাবেক প্রেসিডেন্ট তাঁর চরম কট্টরপন্থী, ইসরায়েলবিরোধী ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা আলোচনার মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে পাকিস্তানের সেনা নেতৃত্ব।
দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের আলোচনা শেষে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে সই করেছে। তবে প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষ থেকে চুক্তিটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ওয়াশিংটনের কট্টরপন্থী ইরানবিরোধীরা একে একটি একপেশে চুক্তি হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের সব রাজনৈতিক দলই একে একটি ‘বাজে চুক্তি’ হিসেবে গণ্য করছে।
ইরানের সঙ্গে এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক সইয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরান হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণা দিয়েছে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে বিজয় বললেও ইরান ‘মহান বিজয়’ দাবি করছে। দুই পক্ষের প্রস্তাবে বড় ফারাক থাকায় আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানসহ ইরানের প্রধান শহরগুলোয় হামলা চালানো হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির পাকিস্তান সফর নিয়ে অনেক আশা ছিল। ভাবা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা আবার শুরু হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বন্ধে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান সমঝোতা আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন দুই দেশের কর্মকর্তারা।
যুদ্ধ বন্ধে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই চুক্তিতে যে ১৪ বিষয় থাকছে, তার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা করতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকে বসলেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভি; যদিও ইউরেনিয়ামের মজুত এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার মূল বিরোধগুলো এখনো কাটেনি।