তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১,৪৮৭ কোটি টাকা
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, গত মার্চ শেষে দেশের তফসিলি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, গত মার্চ শেষে দেশের তফসিলি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা।
২০২৫ সালের মে মাসে কৃষি খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের একই মাসে ১৯২ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ১৩০ কোটি টাকা।
আজ মঙ্গলবার ব্যাংকটি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, গত বছর শেষে সোনালী ব্যাংকের প্রকৃত মুনাফা হতে পারে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি।
এরই মধ্যে ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন বা বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত।
খেলাপি ঋণ আদায়ে বিকল্প পদক্ষেপের পরামর্শ গভর্নরের
পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ব্যাংকগুলোর ঋণের ৩৬ শতাংশ খেলাপি হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের।
অর্থমন্ত্রী সংসদে জানান, ২০২৫ সালের শেষে খেলাপি ঋণ প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে। সংসদ সদস্যদের খেলাপি ঋণ ১১ হাজার কোটির বেশি। শীর্ষ ২০ খেলাপির তালিকায় এস আলম গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ৯ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ দশমিক ৭৫ কোটি টাকা বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
একীভূত উদ্যোগে থাকা পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের নিয়ে সভায় আজ গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এ বার্তা দেন।
১০ কোটি টাকার কম ঋণে গড় খেলাপির হার সাড়ে ২১ শতাংশ। আর ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণে খেলাপির হার ৫১ শতাংশ। অর্থাৎ বড় ঋণের অর্ধেকের বেশি খেলাপি।
জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যাংকিং খাতের মোট খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা জানিয়েছেন। এমপি-দের খেলাপি ঋণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। শীর্ষ ২০ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছেন।
ভয়ংকর উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ, বারবার ঘটে যাওয়া ঋণ জালিয়াতির সব ঘটনা, স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ দেওয়ার প্রবণতার কারণে ব্যাংকিং খাতের ওপর মানুষের আস্থা তলানিতে।