জ্বালানি তেলের মজুত কতটা, আতঙ্কের কেনাকাটা কতটা যৌক্তিক
দেশে গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) অকটেন বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজার টন। সে হিসাবে দিনে অকটেনের চাহিদা গড়ে ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন।
দেশে গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) অকটেন বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজার টন। সে হিসাবে দিনে অকটেনের চাহিদা গড়ে ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে এবার দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি শুক্রবার সকাল থেকে অপরিশোধিত তেল শোধন শুরু করেছে। সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন তেল নিয়ে জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে। ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে, যদিও দেশের জ্বালানি চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ এখান থেকে আসে।
সিলেট নগরের ধোপাদিঘীরপার এলাকায় শনিবার দুপুরে কৃষিবিষয়ক একটি কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, এলপিজি সিলিন্ডারের সরকার–নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা হলেও ২ হাজার ২০০ টাকা নিচে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না।
রাজধানীতে তেলের সংকটে চালকেরা দীর্ঘ লাইনে মরিয়া। আরিফ হোসেন গত তিনদিন ৪-৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফিরে গেছেন তেল না পেয়ে। আজ যত দেরিই হোক তেল নেবেন বলে ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে।
রাজধানীতে তেল সংকটে চৈত্রের প্রচণ্ড রোদে ৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ২০০ টাকার তেল পাচ্ছেন চালকরা। রাজারবাগ, আরামবাগসহ ৭টি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, কেউ কেউ ৬ ঘণ্টা অপেক্ষায়। রাইড শেয়ার ও প্রাইভেট গাড়ির চালকরা ভোগান্তিতে।
জামালপুরের ইসলামপুরে জ্বালানি বিক্রির গুজবে শতাধিক মোটরসাইকেলচালক ফিলিং স্টেশনে ভিড় জমায়। জ্বালানি না পেয়ে তারা ২ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
ওমোডা ৯ প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি একবার চার্জ ও ৬৫ লিটার জ্বালানিতে ১২৫৫ কিমি পথ অতিক্রম করেছে। ঢাকা-টেকনাফ রুটে পরিচালিত রেঞ্জ টেস্টে প্রতি কিমি খরচ হয়েছে মাত্র ৬ টাকা। এতে বাংলাদেশের রাস্তায় এর দক্ষতা প্রমাণিত হয়েছে।
রুমিন বলেন, ‘জ্বালানিমন্ত্রীরা যখন গণমাধ্যমে কথা বলেন, তখন মনে হয় বাংলাদেশে আল্লাহর রহমতে কোনো সংকট নেই।’
‘দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই’—সংসদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের এমন বক্তব্য যথার্থ বলে মন্তব্য করেন জ্বালানীমন্ত্রী।
রাজধানীতে জ্বালানির তীব্র সংকটে চালকরা কষ্ট পাচ্ছেন। বনশ্রীর আকরামুল ইসলাম রাত তিনটে থেকে সাত ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গাড়ির তেল পেয়েছেন। নিয়োগকর্তার ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি।