ব্যারাজ–বিতর্ক: পদ্মা (গঙ্গা) ব্যারাজ প্রকল্পের পটভূমি
১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের কার্যনির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় গঙ্গা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।
১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের কার্যনির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় গঙ্গা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নের প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। খুব শিগগির টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ শুরু হবে। আর এই অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সরকার ৩৪,৪৯৭ কোটি টাকায় পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প অনুমোদন করেছে। রাজবাড়ীর পাংশায় ২.১ কিমি বাঁধ নির্মাণের কাজ এ বছর জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত চলবে। এটি পানির সমস্যা সমাধান, নদী পুনরুজ্জীবন এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহায়ক হবে।
এই মরীচিকার বিষয়টি প্রস্তাবিত দ্বিতীয় তিস্তা ব্যারাজের জন্যও প্রযোজ্য হবে। এই ব্যারাজের প্রস্তাব একেবারেই নতুন ও আকস্মিক।
গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে অনলাইন ও গণমাধ্যমে যে সমালোচনা চলছে তার বেশির ভাগই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রতিটি সমস্যারই প্রকৌশলগত ও বৈজ্ঞানিক সমাধান আছে। দরকার শুধু সৎ সাহস ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা, যাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশ্বের অভিজ্ঞতা প্রকল্পের নকশায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
বিভিন্ন সূত্রে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলার পাংশায় পদ্মা ব্যারাজ নির্মিত হবে। এর মোট দৈর্ঘ্য হবে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার।
একনেক সভায় পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে, যার খরচ ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। রাজবাড়ীতে এসব সুসংবাদে দোয়া মাহফিল ও আনন্দমিছিলের আয়োজন হয়েছে। প্রকল্পে পানি সংরক্ষণ ও নদী পুনরুজ্জীবনের পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।
আজ বুধবার একনেক সভায় ৩৪,৪৯৭ কোটি টাকার পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। জুলাই থেকে কাজ শুরু হবে এবং ২০৩৩ সালের জুন মাসে শেষ হবে। এতে পানির সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি লবণাক্ততা নিরসন ও উৎপাদন বৃদ্ধি হবে।
প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বিশেষজ্ঞ নজরুল ইসলাম বলছেন, সমীক্ষা ছাড়াই এগিয়ে যাওয়া অপচয়মূলক ও ক্ষতিকর হবে। এটি উজানে বন্যা-পাড়ভাঙন বাড়াবে, লবণাক্তা গভীরে প্রবেশ করাবে এবং ভারতের কাছ থেকে গঙ্গার হিস্যা আদায়ের পথ বন্ধ করবে। বাপা-বেনের সুপারিশে জাতিসংঘ চুক্তি র্যাটিফাই ও অবৈধ প্রতিবন্ধকতা সরানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
আগামী বুধবার একনেক সভায় পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) নির্মাণ প্রকল্পের ৩৩,৪৭৪ কোটি টাকার প্রস্তাব উত্থাপিত হতে পারে। রাজবাড়ীর পাংশায় ২.১ কিমি বাঁধ নির্মাণে পানি সংকট মোকাবিলা ও অর্থনৈতিক সুবিধা আনার লক্ষ্য। ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব কমাতে পাঁচটি নদী পুনরুজ্জীবিত হবে।
পদ্মা (গঙ্গা) ব্যারাজকে কোনো একক প্রকৌশল প্রকল্প হিসেবে নয়, একটি সমন্বিত জাতীয় অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। লিখেছেন মো. শাহজাহান কবীর
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণে বিএনপি সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান।