বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে চিরচেনা রাজনৈতিক দ্বিচারিতা
ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা সব সময়ই স্বৈরতন্ত্রের জন্ম দিয়েছে। ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে এই দর্শন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ধারণ করা হয়েছিল।
ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা সব সময়ই স্বৈরতন্ত্রের জন্ম দিয়েছে। ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে এই দর্শন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ধারণ করা হয়েছিল।
আসামিপক্ষের আপিলে ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট প্রধান আসামি নূর হোসেন, র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন উচ্চ আদালত।
বিচার বিভাগ সংস্কারে বিএনপির অতীতের দাবি এবং সাম্প্রতিক অবস্থানের মধ্যে অসংগতি দেখা দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট–সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন আলোচনা জাগিয়েছে।
আর্থিক স্বাধীনতা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিশ্চিত করে। এই চিন্তায় ভ্রান্তি থাকতে পারে। কিন্তু বিচার বিভাগের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দকে রাষ্ট্র পরিচালনার কৌশলগত বিনিয়োগ(স্ট্র্যাটেজিক ইনভেস্টমেন্ট) বিবেচনা করা হয়, এটি অভ্রান্ত সত্য।
৩১ দফা ও ইশতেহারে বিএনপি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলেছে; কিন্তু বাতিল করেছে দুই অধ্যাদেশ।
জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের বিচার বিভাগ সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ বাতিলের বিল উত্থাপিত হয়েছে। একই দিনে নির্বাচন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সাতটি বিল পাস হয়। বিরোধী দলের আপত্তা এবং বিল উত্থাপনে কিছু তালগোলও ঘটেছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, বিএনপি সরকার বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন ও গুম প্রতিরোধ নিয়ে পেছনে হাঁটছে। ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু গ্রহণের প্রশংসা করলেও অন্যান্য অধ্যাদেশে দুর্বলতা দেখে সমালোচনা করেছেন। টিআইবি চারটি রাখা, ছয়টি সংশোধন ও দুটি বাতিলের সুপারিশ করেছে।
মাদুরোর আইনজীবীরা বিচার শুরুর আগেই নানা কৌশলে তা ভন্ডুল করে দেওয়ার চেষ্টা চালাতে পারেন।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠা–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ রহিত করা হলেও এ বিষয়ে সংসদে নতুন বিল আনা হবে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার কমিশনের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সরকারের প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ বিন আলী।
বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় সংকট মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিচারকের বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
এমনিতেই ১০ বছর পেরিয়ে গেছে, বিচার আরও বিলম্ব হলে তা ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে অন্তরায় হয়ে উঠবে।