টানা সাত দিন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু, জুলাইয়েই প্রাণ হারিয়েছেন ৩৬ জন
চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৩৬ জনই মারা গেছেন জুলাই মাসে। কীটতত্ত্ববিদেরা আশঙ্কা করছেন, এবার অক্টোবর পর্যন্ত সংক্রমণ বাড়তে পারে।
চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৩৬ জনই মারা গেছেন জুলাই মাসে। কীটতত্ত্ববিদেরা আশঙ্কা করছেন, এবার অক্টোবর পর্যন্ত সংক্রমণ বাড়তে পারে।
ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে চলতি বছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত প্রতি শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোট ৫৩টি ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে।
ডেঙ্গু সবচেয়ে বেশি প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে শিশু, তরুণ, কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল মানুষের। ডেঙ্গুর কারণে এই বয়সী মানুষের মৃত্যু শুধু পারিবারিক শোক নয়, এটি অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতার ওপর সরাসরি আঘাত।
এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রযুক্তির কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, লার্ভা ধ্বংস করার জন্য একটি বিশেষ মেডিক্যাল ট্যাবলেট সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে একটা সময় ডেঙ্গু ছিল ঢাকাকেন্দ্রিক। যখন আমরা ডেঙ্গুকে ঢাকার মধ্যে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারিনি, তখন সেটা ধীরে ধীরে জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়ে।
বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে নিজের ও পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমাদের সচেতনতা ও প্রতিরোধকৌশলেও পরিবর্তন আনা জরুরি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।
ডেঙ্গু এখন আর কোনো বিশেষ মাস বা মৌসুমের রোগ নয়, সারা বছরের।
শ্রীলঙ্কায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে চলেছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৩৪৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ২২০ জনই আক্রান্ত হয়েছেন চলতি জুলাই মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে।
ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সঙ্গে যে বায়ুদূষণের সম্পর্ক আছে, তা উঠে এল এক বৈশ্বিক গবেষণায়। তাতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশসহ যেসব দেশে বায়ুদূষণ বেশি, সেসব দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার বিশ্বের গড় মৃত্যুহারের চেয়ে অনেকটাই বেশি। আবার এসব দেশের যেসব এলাকা বেশি দূষিত, মৃত্যুহারও তুলনামূলক বেশি সেসব এলাকায়।
চলতি মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি আগামী মাসগুলোতে সংক্রমণের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।