পতিত বৃক্ষের কাছে দাঁড়িয়ে আছে অবোধ নীলিমার দানপাত্রজিজ্ঞাসায় উছলিবে অমৃতদ্রব্যের কারুকাজ—হে বৃক্ষ, সঁপে গিয়ে তোমার ডালকোন মহিমায় মন্ত্রমুগ্ধের মতো!স্মরিছে তোমায় অথবাবিচ্ছিন্ন আরও পাতারে?মৌন ইতিহাস থেকে উঠে আসে বৃহৎ বিস্ফোরণ উড়ে যায় বৃহৎকেশীর মন খারাপের মেঘ রাতের শিশির হয়ে ঝরে ভোরের আঙিনায়।ধ্যানস্থ বিষাদী সূর্য বরাবরমধ্যমায় তিলক এঁটেবিষাদের বিকাল নেমে আসে—কাঞ্চনের জোড়া পাপড়ি জানত তারেও ঈর্ষায় গেঁথে রাখবে এমন বিরহী যক্ষ্মিনীহাতের বালায় মহাকালের ঘূর্ণি মেপেউদয়াস্ত এখনো প্রত্যাশায় থাকে ঝরনার জলবিন্দুগুলোর দূরত্ব দেখে;ঘোর বিষাদবৃক্ষ ঠায় জবাব না দেয়—কেন সে এমন একা একা দাঁড়িয়ে!কতটা ধরতে পারছিলেএমন নগ্নতারও আড়াল,আঁচড়নখে বিড়ালির জ্বরপরদেশির বিরহ—আমি তো দেখেছি জলে ভাসা নারীলাশঅসতীরও ভেসে আসা ঢেউ—সৌধ রচনা করে দীর্ঘদেহী সারসপটেনশিয়াল মিনারের আদলেএমন এমন ব্যবধানে।যখন রক্ত ঝরছিলগাবের কষ হয়েতোমরা নিশ্চয়ই জানতেপৃথিবীতে আজ মরে যাবে কেউ।আর একদিন কোমল রোদ এসেপা ছুঁয়ে যাবেমাঘের শেষ রাত্তিরে;বিনাশের দিনকালে এমন করে রচিত হবে পৃথিবীর বদনাম
অসম্ভব বেদনার পায়েরাউড়ে আসে কাঠবাদামের আঙিনায়, পায়ের ছাপ উল্কার হয়ে ডাকেঅসুখীর পয়ার ছন্দে—রোদছাপের চোখগুলো জানেআরও জেগে থাকার বিনিময়েইরচিত হবে সব বিনিদ্র সময়;এরপর পৃথিবীর কান্নারা নোনতা হয়বয়ে যায় শ্বেত চিবুকের জঠরদেশ—আরও কেমন অসম্ভব বেদনায় জাগে নতুন চরের মতো রুক্ষ ঠোঁটআর পাহাড়ের মতো অভিমান।শীতলবৃষ্টি রেইনফরেস্ট আর বরফগলা ত্বকঅবাধ্য চুলের সমান্তরালে কিছু স্লেজে চলুক মন আঙিনায়; অসম্ভব বেদনার অসম্ভব কষ্ট হয়ে—আর তাই শীতের কুয়াশায় আমার কান্না পায় শ্রাবণ মাসের মেঘের মতো।






