এসো প্যাঁচা, ত্রিকালদর্শী, আবির্ভূত হওএখন মধুকুঞ্জেও ষড়যন্ত্র ও অসুখহিংসা, দ্বেষ ও মারী জনপদে জনপদেতুমি অন্ধকারে, গাছের কোটরে, কটাক্ষেএখন মানুষমাত্রে দু পয়সার কাকাতুয়াঊনমানুষ, চারিদিকে শালিক–বন্দনাশ্মশানের ভিতরও ধড়িবাজ, হঠকারীতোমার ঠোঁটে পৃথিবীর প্রথম মন্ত্রআমিও বিকৃত নখর, উবু হয়ে আছিগলায় মুণ্ডের মালা, গলিত হৃৎপিণ্ডঅতিদূর ধানখেত, আর তুমি লক্ষ্মীরবাহন, ঠিক যেন পিতামহী খেতের আলেকাঠের নৌকায় এই ইড়া ও পিঙ্গলাআর প্রতি রাতে তুমি অস্থির জবাগাছকুষ্ঠরোগীর পাশে স্নেহশীতলেতুমি পুনরায় এসো ভূমাজলে, এই দেশে।
নাভি ঝরে গেছে বাদামগাছের নিচেচারিদিকে সাপের কুণ্ডলী, আর অদ্ভুততাঁত কারা বুনে চলেছে সবার অলক্ষেতুমিও কাঁদছ স্ত্রী–গর্ভে, অস্ফুট স্বরেপথে পথে মানুষের মুণ্ড, খুলি ও হাড়নদীর তলায় নৌকার বিধ্বস্ত দেহঝিনুকের ভিতর সর্পিণীর বিষক্রিয়াতুমি অগ্নিজিহ্বা, অরুন্ধতী, মৃত্যুর ওপারেএখন রাত, মহিষেরা বাথানে শুয়েসন্তানের সৎকার করে দ্রাবিড় পুরুষআশ্রয় খুঁজেছে স্ত্রীর নির্জন অন্ধকারেচরাচরে জ্যোৎস্না আর তোমার বিলাপসুপারিগাছঘেরা এই কুঁড়েঘরে বৃক্ষজটশিয়াল ও ইঁদুরের সাথে আমি অশ্রুরুদ্ধতুমি জগজ্জননী, দেবীচক্ষু, জেগে আছঘরের ঈশান কোণে, কঙ্কালের পাশে।
আমরা সকলে সমাহিত শুক্র গ্রহেব্যর্থ জীবন, ব্যর্থ সন্ন্যাস নিয়েরাহু রাহু আর রাহুর বিস্তারএই জড়জীবন, নাড়িচক্র পূর্ববৎতুমিও মূকবধির আতাগাছসদ্যোজাত বাছুরের পাশেমাতৃধ্যান কুমারী মাতারদেহের ভিতর সৎকারস্মৃতিএখানে ঢোল আর করতালেরশব্দে মাছেদের ঘুম ভাঙেআর অর্ধস্ফুট হরিণা দৌড়ায়শৃঙ্গারের নীল দংশনেআমি ছাইমাখা খড়ের বিছানায়অন্য মৃতদেহের পাশে প্রাণীরূপেরক্তে ভেসে গেছে গর্ভগৃহতুমি মাতৃবর্ণা, কিঞ্চিৎ হলুদ নিয়ে এসো।
এই ডোরাকাটা সাপ এই কালনাগিনীতার ঠোঁটে তার জিহ্বায় এই মৃত্যুচুম্বনএই প্রেম এই সখ্য ভান্ডে ও ব্রহ্মাণ্ডেআমি প্রস্তাব করি জগতের এই নিয়মতোমার পাঁজর কারা সেলাই করে গেছেকালচক্রে, পৃথিবীর বিষধর সাপ জানেহেঁয়ালিতে উড়ে শিবনৌকা নিশাকালেআর তুমি গোয়ালঘরে গাইগরুর পাশেহিংসা ও প্রেমের মতো মানুষের গন্ধওটের পায় বনের প্রাণী, তাই সদ্যোজাতফড়িংও পালায় মানুষের নিকট থেকেতুমি শুধু শব্দহীন, জোড়াচোখ, শঙ্খলাগাআমার সারা শরীরে বাঘের আঁচড়জবা ফুল আমার নারী, সেও উড়ে গেছেবাতাসে, শুধু পদ্মিনী শঙ্খিনী চিৎ–চরাচরতুমি কালী, বাঁশবাগানে জবা হয়ে ওঠো।
কোজাগর এই রাতে চূর্ণচুলে গর্ভসিঁদুর মেখেযেসব স্ত্রীরা হারিয়ে গেছে অনশ্বর নদীর বাঁকেতাদের চোখে দ্যাখো অশ্রুর দাগ লেগে আছেতুমি কুণ্ডলিনী, তাদের করো দয়া, ব্রহ্মজ্ঞান দাওপাঁজর দিয়ে বানানো এই নৌকা একদিনপানিতেই ডুবে যাবে, তবু সম্মুখে শীর্ণ পথভাঙা ষড়রিপু নিয়ে টুপটাপ পড়ে এই রমণস্ত্রী–হারানো পুরুষের গর্ভবতী শামুকের স্মৃতিপদ্মপাতায় জমে থাকে রক্ত আর দীর্ঘশ্বাসবীজখেতে শৃঙ্গার ও লবণ, ঘন নীল অন্ধকারেশঙ্খচূড় আমিও, তৃষাতুর ঠোঁট নিয়ে মৃত্তিকায়মৃত নারীর শয্যায় হাঁটুমুড়ে কাঁদছি স্পর্শহীনকুয়াশায় ভিজে গেছে মাঠ, শ্মশানে শীৎকাররুদ্রাক্ষের মালা হাতে নবীন নারী আর তাদেরপদ্মযোনি, বটের গাছের নিচে বংশী বাজিতেছেমাতৃদুগ্ধে তুমি পুরুষের চোখ ধুয়ে দিয়ে যাও






