ভোরের স্বপ্নের শেষ প্রান্তে একটা সকালহাজির হলোডান হাত বাম হাতের ওপর রাখতেই মনে হলো বরফের ফালি... বাম চোখ ডান চোখের অস্তিত্ব অস্বীকারকরছে... মানুষ, কুকুর, বস্তু দূরে সরে যাচ্ছে এবং তারা একটা সরলরেখায় রূপান্তরিত হয়ে ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে গেল...অনুপস্থিতির ভিড়ে নিজেকে খুঁজে না পেয়ে কাঠের চেয়ারে বসে পড়লাম, সামনে টেবিল, আমার থেকে যার দূরত্ব দেড় হাত, এবং সেখানে একাকিত্ব ঘাপটি মেরে আছে...পুরাতন বইয়ের মতো নিজেকে একনিশ্বাসে পড়তে পড়তে শেষ পৃষ্ঠায় এসে থমকে গিয়ে দেখি, আঙুলের ডগা থেকে উড়ে যাচ্ছে জ্বলন্ত অক্ষর আর আমি আগ্নেয়গিরির উত্তাপ অনুভব করছি...
একটা কালো রেখা আরেকটা গোলাপি রেখাকে অতিক্রম করার চেষ্টা করছেতাদের গন্তব্য সূর্যের চেয়ে উজ্জ্বল বিন্দুর দিকেঅতিক্রান্ত পথ পাইথনের মতো তেড়ে আসছেপিছু পিছু, রেখা দুটো ছুটছেই...পরাজিত হবার ভয় না, এক আদিম চেতনার মৃত্যুভয়তাদের সামনে হা করে তাকিয়ে আছে, যা মুছে ফেলার প্রতিযোগিতায় তারা হারতে চায় নাতারা তাদের জন্ম-ইতিহাস মুছে ফেলেছে, যেভাবেশেষ রাতে একটা সকাল মুছে ফেলেমহাবিশ্বের নিস্তব্ধতা...গন্তব্য গোলাপ না, কাঁটাও না, এটা ব্যাখ্যা করা যায় না,স্মৃতির চেয়ে তীক্ষ্ণ কোনো ফিতেয় তার দূরত্ব মাপা যায়, রেখা দুটো তা জানে, জানে না তাদের জন্মদাতা, অথচ তিনিই তাদের দার্শনিক গুরু...






