ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামের বীরেশ দিঘিতে আজ শুক্রবার এক রোমাঞ্চকর মাছ ধরার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মাত্র একটি কাতলা মাছ শিকার করে প্রথম পুরস্কার হিসেবে দুই লাখ টাকা জিতে নিয়েছেন মো. নাছির মিয়া।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডা এলাকার বাসিন্দা নাছির মিয়া (৫০) একজন শৌখিন মাছশিকারি। আজকের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ভোরে ২৬ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কাটেন তিনি। সকাল থেকে বড়শি ফেলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকলেও বিকেল চারটার আগে তিনি কোনো মাছ ধরতে পারেননি। তবে শেষ মুহূর্তে তার বড়শিতে ধরা পড়ে প্রায় সাত কেজি (৬ কেজি ৮৮৫ গ্রাম) ওজনের একটি বিশাল কাতলা মাছ। দিনভর আর কোনো মাছ শিকার করতে না পারলেও এই একটি মাছই তাকে প্রতিযোগিতার শীর্ষে বসিয়ে দেয় এবং তিনি জিতে নেন দুই লাখ টাকার প্রথম পুরস্কার।

নাছির মিয়া মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমি সারা দিনে আর কোনো মাছ শিকার করতে পারিনি। শেষ মুহূর্তে একটি মাছ শিকার করলেও প্রথম পুরস্কার পেয়েছি; ভালোই লাগছে। এর আগের আসরে (গত ১৬ অক্টোবর) এখানে বড় একটি কাতলা মাছ ধরে শেষ পর্যন্ত জালবন্দী করতে পারিনি। ওই সময়ের কষ্ট আজ ভুলে গেছি।’

সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামের বীরেশ দিঘিতে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় মোট ২৪ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। জনপ্রতি ২৬ হাজার টাকা টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছিল, যার ফলে আয়োজকদের মোট সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা। প্রতিযোগীদের জন্য মোট ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকার পাঁচটি আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা ছিল।

আজ সকাল সোয়া ছয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত এই মাছ শিকার প্রতিযোগিতা চলে। সরেজমিনে দেখা যায়, দিঘির চারপাশের ২৪টি নির্দিষ্ট মাচায় (আসন) বসে মাছ ধরছিলেন প্রতিযোগীরা। লটারির মাধ্যমে তাঁদের আসন নির্ধারণ করা হয়েছিল। দিনভর দিঘির পাড়ে ছিল চরম উত্তেজনা ও উচ্ছ্বাস। কেউ মাছের খাবার প্রস্তুত করছিলেন, আবার কেউ ধৈর্য ধরে বড়শির অপেক্ষায় ছিলেন। মাঝেমধ্যেই বড় মাছ ধরার সংবাদের সাথে সাথে শিকারি ও তাঁদের সহযোগীদের হইহুল্লোড় শোনা যাচ্ছিল। জানা গেছে, টিকিট মূল্য ছাড়াও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ও প্রস্তুতি বাবদ একজন প্রতিযোগীকে গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে।

এই প্রতিযোগিতায় কেবল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলা নয়, বরং ঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ থেকেও শৌখিন শিকারিরা এসেছেন। আয়োজকদের দাবি, দিঘিতে ৫ থেকে ১০ কেজি ওজনের কাতলা মাছ ছিল।

পুরস্কারের তালিকায় প্রথম পুরস্কার ছিল দুই লাখ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার এক লাখ টাকা, তৃতীয় পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা এবং চতুর্থ ও পঞ্চম পুরস্কার ছিল যথাক্রমে ৪৫ ও ৪০ হাজার টাকা।

নাছির মিয়ার পাশাপাশি পুরস্কার জিতেছেন আরও কয়েকজন। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতালা গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন সকাল সাতটা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত দুটি কাতলা মাছ শিকার করেন। মাছ দুটির ওজন ছিল ৬ কেজি ৭৪০ গ্রাম ও ৬ কেজি ৪৮৫ গ্রাম। এর মাধ্যমে তিনি দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়ে যথাক্রমে ১ লাখ ও ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার পান। একই এলাকার কাউছার মিয়া ৫ কেজি ৫২০ গ্রাম ও ৫ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের দুটি কাতলা ধরে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান অধিকার করেন এবং যথাক্রমে ৪৫ ও ৪০ হাজার টাকা পুরস্কার লাভ করেন।

পৌনে তিন একরের বিশাল বীরেশ দিঘিতে 'সরাইল মৎস্য চাষ প্রকল্প' নামের একটি সমিতি প্রতি বছর একাধিকবার এই ধরনের মৎস্য শিকার প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এই আয়োজন দেখতে দিঘির চারদিকে প্রচুর সাধারণ দর্শকের ভিড় জমে।

সরাইল মৎস্য চাষ প্রকল্পের সভাপতি আলী মিয়া মুক্তকণ্ঠকে বলেন, এখানে প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করা হয়। এটি এ বছরের সপ্তম আয়োজন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শৌখিন মৎস্যশিকারিরা এখানে অংশ নেন।