‘হাসিমুখে ছেলেটা বের হলো, ফিরল লাশ হয়ে। বিদেশে থাকায় ছেলের মুখটাও দেখতে পারল না বাপে।’ বিলাপ করতে করতে আজ শুক্রবার দুপুরের কথাগুলো বলছিলেন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত শাহাদাত হোসেন প্রধানের (২৩) মা শাহানা বেগম।
নিহত শাহাদাত কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা ইব্রাহিম খলিল প্রধান বর্তমানে লিবিয়াপ্রবাসী। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে শাহাদাত ছিলেন দ্বিতীয় সন্তান। তাঁর বড় ভাই আহাদ হোসেন প্রধান সংযুক্ত আরব আমিরাতপ্রবাসী এবং ছোট বোন ইভা আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে।
শাহাদাতের মা শাহানা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে হাসিমুখে শাহাদাত তাঁর ছোট খালা হেলেনা আক্তারের স্বামীর বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট সদরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। যাওয়ার সময় মা হিসেবে তিনি নিজেই ছেলেকে এগিয়ে দিয়েছিলেন।
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল নয়টার দিকে বাড়ির কিছুটা দূরে ঢাকা-মতলব সড়কের দাউদকান্দি উপজেলার মাদলা গ্রামের কাছে পৌঁছালে মতলবগামী দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে শাহাদাতের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
দুর্ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছান এবং পরে শাহাদাতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর কাকরাইলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, শাহাদাত দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেলটি চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা প্রাইভেট কারের সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পরপরই প্রাইভেট কার নিয়ে চালক দ্রুত পালিয়ে যান।
আজ শুক্রবার সকাল নয়টায় দৌলতপুর গ্রামের ঈদগাহ মাঠে জানাজা সম্পন্ন হয় এবং anschließend গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়।
ছোট ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে দেশে ফিরেছেন বড় ভাই আহাদ হোসেন। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, শাহাদাত ২০১৯ সালে স্থানীয় পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। তবে এরপর তিনি পড়াশোনা বন্ধ করে দেন। তাঁর একমাত্র শখ ও নেশা ছিল মোটরসাইকেল চালানো এবং নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে স্বজনদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া।
আহাদ হোসেন আরও বলেন, ছোট ভাইয়ের শখ মেটাতে ২৭ দিন আগে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকায় তিনি মোটরসাইকেলটি কিনে দিয়েছিলেন। সেই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তাঁর ছোট ভাই প্রাণ হারালেন।
শাহাদাতের বাবা ইব্রাহিম খলিল বর্তমানে লেবাননে অবস্থান করছেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না। ফলে প্রিয় সন্তানের মুখটি শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পাননি তিনি।
দাউদকান্দি মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, তিনি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এবং মোটরসাইকেলচালক মারা যাওয়ার কথা শুনেছেন। এ ব্যাপারে দাউদকান্দি মডেল থানায় কেউ অভিযোগ করেননি।